বিশেষ প্রতিনিধি:
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৪৯ নং ওয়ার্ড দক্ষিণখান আশকোনা হাজি ক্যাম্প বায়তুল মাহফুজ জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় মাইশা এম এস প্রোপার্টিজ নামের একটি ডেভলোপার কোম্পানির এমডি হায়দার আলী শেখ গ্রাহকের কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ফ্লাট বুঝে পেতে একাধিক মামলা দায়ের করেন।ইতোমধ্যে একাধিক মামলায় ওয়ারেন্ট ইস্যু হওয়ায় বাদী কে খুন জখমের হুমকি ধামকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।জানা যায়,জমি মালিক ফার্নিচার ব্যবসায়ী মোঃ জসিম উদ্দিন বাদলের সাথে গত ১০ই মার্চ ২০২৪ মাইশা এম এস প্রোপার্টিজ এর এমডি মোঃ হায়দার আলী শেখ এর সাথে গ্রান্ডফ্লোর থেকে ৯ম তলা পর্যন্ত বাড়ি/ফ্লাট নির্মাণ চুক্তির সময়সীমা নির্ধারণ হয়।
ল্যান্ড ওনার মো: জসিম উদ্দিন বাদল ও মাইশা এম এস প্রোপার্টিজ’র এমডি মোঃ হায়দার আলী শেখ এর উপস্থিতিতে জাপান প্রবাসী মো: ইকরামুল হক ও ইকরামুল হকের লোকাল গার্ডিয়ান রিয়াজুল হাসান এর উপস্থিতিতে আইনগত প্রক্রিয়ায় ৯০ লাখ টাকা নগদ গ্রহণের মাধ্যমে দ্বিতীয় তলার দুটি ফ্লাটের বায়না রেজিষ্ট্রেশন সূত্রে( দলিল নং-১৭৫৩, তাং- ২০/০২/২০২৩ ইং) মালিক মোঃ ইকরামুল হক C/O রিয়াজুল হাসান মর্মে মালিক হয়ে একটি মিনি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়।কিন্তু ক’দিন পরেই
হায়দার আলীর নির্দেশে ভবনের কেয়ারটেকার রাতের আঁধারে সাইনবোর্ড টি আগুনে পুড়িয়ে দেয়।চুক্তি দীর্ঘ সময় পার হলেও ফ্ল্যাট বুঝে না পেয়ে ঢাকা আদালতে এনআই এ্যাক্টে মামলা দায়ের করেন,সাংবাদিক রিয়াজুল হাসান অভি।
উক্ত মামলায় ওয়ারেন্ট ইস্যু হওয়ায়,হায়দার আলী বিভিন্ন সময় রিয়াজুল ইসলাম কে বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।গত ২২ ই মার্চ মোবাইল ফোনে হায়দার আলী হুমকি দিয়ে বলেন,প্রয়োজনে ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে তাকে হত্যা করে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দিবে।এ ব্যপারে রিয়াজুল হাসান বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। শীর্ষ প্রতারক মো: হায়দার আলী শেখ(৪৩)পিতা,মোঃ লোকমান হোসেন গোপালগঞ্জের শেখ পরিবারের সন্তান পরিচয়ে স্বৈরাচার আওয়ামী আমলে প্রতারনা করে গ্রাহকদের নিকট হতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়,মূলত তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার রামপালে তবে ভোটার আইডি কার্ডে স্হায়ী ঠিকানা আব্দুল্লাহপুর দক্ষিণ খান,অস্থায়ী ঠিকানা,দিয়া বাড়ী, মধ্যপাড়া,হরিরামপুর, তুরাগ।
হায়দার আলীর স্ত্রী সুচিত্রা সরকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নার্স হয়েও রয়েছেন কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ পদে। সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বিল্ডিংয়ে হায়দার আলী শেখ বেজ থেকে মাত্র ৫ তলা পর্যন্ত শুধু ছাদ ঢালাই করলেও এখনো কোনো ফ্লোরেই গাঁথুনির কাজ শুরু করতে পারেননি। তাছাড়া ৫ তলার উপর থেকে ৯ম তলা পর্যন্ত আরও ৪টা ছাদ ঢালাই দিতে হবে।এছাড়া প্রতিটি ফ্লোরের গাঁথুনি, পলেস্তারা, রং, পেইন্ট, জানালা-দরজা, গ্লাস থাই ও গ্রীলের কাজ সবই বাকি। তাছাড়া স্যানেটারী লাইন ও বৈদূতিক কাজও শুরু করার লক্ষণ দেখা যায়নি।আত্মগোপনে থাকা এমডি রামপালের হায়দার আলী শেখ ফিরে আসলেও আরও দেড় বা দু বছরেও বিল্ডিং এর কাজ সমাপ্ত করতে পারবেননা না, বলে চরম হতাশ ফ্লাট মালিকরা। জানা যায়,হায়দার আলী শেখ ফ্লাট দেওয়ার কথা বলে বায়নামা রেজিষ্ট্রেশনের নামে একই ফ্লাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।এদিকে বাড়ি নির্মাণ চুক্তির শর্ত মোতাবেক নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ শেষ করতে না পারলে ল্যান্ডলোনার ও ফ্লাট মালিকদের প্রতিমাসে বাসা ভাড়ার টাকা হায়দার আলী শেখ পরিশোধ করবেন মর্মে যে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন তা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।এমডি হায়দার আলী শেখ মোহাদ্দেস এর নিকট থেকে ১৫ লাখ, ৪র্থ তলা ফ্লাট দিবেন বলে জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮০ লাখ, ৬ষ্ঠ তলায় একটি ফ্লাট দিবেন বলে শহিদের নিকট থেকে ৩২ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা, মারুফের নিকট থেকে ২৬ লাখ টাকা পরবর্তী তে স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়ার মাধ্যমে আরও ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।এদিকে ল্যান্ড ওনার ও বায়নামা রেজিষ্ট্রেশন সূত্রে ফ্লাটের মালিকগণ এই প্রতারক এমডিকে ধরিয়ে দিতে এবং ফ্লাট বুঝে পেতে স্থানীয় থানা ও আদালতে দফায় দফায় অভিযোগ করলেও হায়দার আলী রয়েছেন ধরা-ছোয়ার বাইরে।অন্য দিকে পালিয়ে থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে গ্রাহকদের গ্রাহক কে হত্যার দিয়ে আসছে শীর্ষ প্রতারক হায়দার আলী।
উপদেষ্টা ড. সরকার মো.আবুল কালাম আজাদ। সম্পাদক : সরকার মো. আব্দুল মা'বুদ জীবন। প্রকাশক : মোছা. বর্না খাতুন। নির্বাহী সম্পাদক : টুটুল হুমায়ুন। ঠিকানা : বাড়ী, নীল অপরাজিতা, ২১৯/৪- ক দক্ষিণ পীরেরবাগ, আগারগাঁও ঢাকা, যোগাযোগ : +৮৮০১৮১৪৯৯০৫৪৬, ইমেইল : smjiboneditor@gmail.com
© All rights reserved © NagorikKontho