চোরাই অটো কেনাবেচার আখড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈর মৌচাক দোকানপার বাজার সরদার অটো এন্ড পার্টস ঘিরে চুরি–ছিনতাই চক্রের দৌরাত্ম্য

চোরাই অটো কেনাবেচার আখড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈর মৌচাক দোকানপার বাজার সরদার অটো এন্ড পার্টস ঘিরে চুরি, ছিনতাই চক্রের দৌরাত্ম্য, মূল হোতা আইয়ুব আলী সরদার।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক দোকানপার বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচা ও মডিফাই করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,এ অবৈধ কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে সরদার অটো এন্ড পার্টস,যার মালিক আইয়ুব আলী সরদার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আইয়ুব আলী সরদারের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অটোরিকশা চুরি, ছিনতাই এবং চালকদের অজ্ঞান করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। এসব চোরাই অটো পরবর্তীতে সরদার অটো এন্ড পার্টসে এনে পুরনো যন্ত্রাংশ খুলে নতুনভাবে সংযোজন, রং ও কাপড় পরিবর্তন করে চড়া দামে বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে,গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় অটো চুরি, ছিনতাই ও অজ্ঞান পার্টির মাধ্যমে অটো লুটের শতাধিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এসব অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তি হচ্ছে না।সরেজমিনে সরদার অটো এন্ড পার্টসে গিয়ে দেখা যায়, পুরনো চাকা, ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ খুলে এক অটো থেকে অন্য অটোতে সংযোজন করা হচ্ছে। বাইরে থেকে সম্পূর্ণ নতুন মনে হলেও ভেতরে ব্যবহার করা হচ্ছে পুরনো ও চোরাই যন্ত্রাংশ।
একজন অটোরিকশা চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“আমার অটো রিকশাটি রাস্তা থেকে হঠাৎ হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে থানায় অভিযোগ করি। কিন্তু আজও অটো ফেরত পাইনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার অটো এখানে এনে রং বদলে বিক্রি করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে সরদার অটো এন্ড পার্টসের গ্যারেজে গেলে চুরি ও ছিনতাই চক্রের কথিত লিডার শামীমকে পাওয়া যায়। তিনি নিজেকে গ্যারেজের কর্মচারী দাবি করে বলেন,“আফিয়াদ ও নূর মোহাম্মদ দুইটি অটো আমার কাছে নিয়ে আসে। আমি ৪০ হাজার টাকা করে আইয়ুব আলীর কাছে বিক্রি করি। পরে আইয়ুব আলী শুধু রং ও কাপড় পরিবর্তন করে চড়া দামে বিক্রি করেছে।”
তবে এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সরদার অটো এন্ড পার্টসের মালিক আইয়ুব আলী সরদার। তিনি বলেন,
“আমি এসব অভিযোগ মানি না। এখানে কোনো চোরাই গাড়ি কেনাবেচা হয় না। অটো তৈরি বা মেরামতের জন্য কোনো অনুমতির দরকার নেই। আপনারা যে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারেন।”এদিকে অটো তৈরির অনুমতি ও লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়ে মৌচাক পৌরসভার লাইসেন্স কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন,“দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চোরাই অটো মডিফাই ও বিক্রি হলেও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়ছে না। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে এই চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।”
এ বিষয়ে মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রসাশনিক কর্মকর্তা মু:এনামুল হক মোল্লা জানান, এই বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে যথাযথ আইননানুক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।











