মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে মাদকের দৌরাত্ম্য: প্রকাশ্যে কেনাবেচার অভিযোগ, কঠোর অভিযানের দাবি

>মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে মাদকের দৌরাত্ম্য: প্রকাশ্যে কেনাবেচার অভিযোগ, কঠোর অভিযানের দাবি
>>সন্ধ্যা নামলেই সক্রিয় চক্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাসিন্দারা, ঝুঁকিতে তরুণ প্রজন্ম
রাজধানীর মিরপুর এলাকার চিড়িয়াখানা রোডসংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও বিসিআইসি কলেজ এলাকার আশপাশে মাদক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এখানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের কেনাবেচা চালিয়ে যাচ্ছে, যা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এলাকায় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। অনেকেই অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট কিছু স্পটে প্রকাশ্যেই মাদক লেনদেন হয়, অথচ কার্যকর নজরদারির অভাবে তা বন্ধ হচ্ছে না। এতে করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“আমরা পরিবার নিয়ে এখানে থাকি, কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে সন্ধ্যার পর সন্তানদের বাইরে যেতে দিতে ভয় লাগে। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে এক ব্যক্তিকে ঘিরে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে তাকে “ফারুক” বা “ইয়াবা ফারুক” নামে ডাকা হয় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর, তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা বা জিডি রয়েছে কিনা তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ-এর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা জনগণকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু অভিযান নয় টেকসই সমাধানের জন্য নিয়মিত টহল জোরদার, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও সক্রিয় করা জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।
মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই এখন সময়ের দাবি এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসী। অন্যথায়, পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়ে সামাজিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।













