ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
রেকর্ড পরিমান ভোটের ব্যবধানে রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী হারুন অর রশীদের নিরঙ্কুশ বিজয় কালিয়াকৈরে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ নগদ টাকা লুট ও প্রাণনাশের হুমকি- থানায় অভিযোগ প্রথমবারের মতো দুই আসনে বিজয়ী বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৫০ লাখ টাকাসহ বেলাল উদ্দিন প্রধান নামে এক যাত্রী আটক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুরে ২৫৭টি ভোট কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ উল্লাপাড়ায় এম. আকবর আলী’র শেষ নির্বাচনী জনসভায় জনতার ঢল ঢাকা–১৭ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায়  কড়াইল বস্তিতে ধানের শীষের পক্ষে ৯৯ ভাগ ভোটের আশা শাজাহানের সংসদ নির্বাচন: দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলের বিষয়ে যা জানা গেল মনিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির মিছিল ও পথসভায় হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ বহু দিন পর নানি বাড়ী এসে উন্নয়ন করতে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান

জনবিক্ষোভ : অধিকার রক্ষায় বড়পুকুরিয়ায় লাঠি মিছিল

মাসউদ রানা

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী খনি কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অধিক পরিমাণে ক্ষতিপূরণের প্রত্যাশায় ফসলি জমিতে বহিরাগতদের নিম্নমানের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ ও লাঠি মিছিল করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জনসাধারণদের নিয়ে গঠিত তাদের দাবি আদায়ের সংগঠন ” কৃষি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটি এবং জীবন ও বসতভিটা রক্ষা কমিটি “র ব্যানারে কাজীপাড়া, চৌহাটি ও হামিদপুরের ৬ শতাধিক জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহণ করেন।বিক্ষোভ মিছিলটি কাজীপাড়া থেকে বের হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা প্রদক্ষিণ করে চৌহাটি এলাকা হয়ে হামিদপুর মোড়ে এসে সমবেত হয়।
এ সময় শিশু থেকে বৃদ্ধ, কৃষক -শ্রমিক থেকে শিক্ষিত বেকার যুবক প্রত্যেককে হাতে লাঠি নিয়ে অধিকার ও ন্যায্যতা আদায়ের জন্য স্লোগান দিতে থাকে।

গতকাল ৩ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেলে হামিদপুর মোড়ে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন- কৃষি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালমান মাহমুদ, সহ-সভাপতি মাহমুদুন্নবী মিলন, জীবন ও বসতিটা রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম তানজিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মিলন পারভেজ প্রমুখ।
কৃষি ও বসত বাড়ি রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালমান মাহমুদ বক্তব্যে বলেন, জমি অধিগ্রহণের কথা শুনে সুযোগ সন্ধানী কয়লা খনির কর্মকর্তারাসহ বহিরাগতরা একেক জন একবিঘা, দেড় বিঘা কৃষি শ্রেণির জমির মধ্যে অবৈধ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নমানের বিল্ডিং করছে। যা দুর্নীতির অন্তর্ভুক্ত। আমরা এই অনিয়মের পক্ষে নই। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়িত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই এলাকায় কোন জমি অধিগ্রহণ করতে দেয়া হবে না। খনিকর্তৃপক্ষ আমাদের এলাকায় না বলেই ড্রোন ছেড়ে ভিডিও করছে। আমরা তাদের হুশিয়ার করে দিতে চাই আগামীতে এমন কর্মসূচি দেয়া হবে যে, রাজপথ, রেলপথ সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হবে। আমরা চৌহাটি, কাজীপাড়া, হামিদপুর, বাঁশপুকুর এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজনদের নিয়ে আমাদের দাবি আদায় করে নিব। ইনশাআল্লাহ।

সংগঠনের সহ-সভাপতি মাহমুদুন্নবী মিলন বলেন, এই কয়লা খনি আমাদের ক্ষতি করছে। ঘরবাড়ি ফাটল ধরেছে। সর্বক্ষণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি।খনি কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি সার্ভে করার পরেও এ পর্যন্ত কোন ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন করেনি। তারা আমাদের সঙ্গে প্রহসন করছে। অবশেষে খনিকর্তৃপক্ষ আমাদের রাজপথে লাঠি নিয়ে বের হতে বাধ্য করেছে। এই লাঠি কয়লা খনির দালাল ও সুযোগ সন্ধানীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের উপর তারা যে অন্যায়, অবিচার চালিয়েছে
তা সাংবাদিক, প্রশাসনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অবগত আছেন। আমরা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, অবিলম্বে আমাদের দাবিগুলো যেন বাস্তবায়ন করা হয়। জনগণ রাষ্ট্রের সম্পদ, জনগণের উর্ধ্বে কিছু নয়। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য মাঠে নেমেছি। তিনি আরো বলেন,
জেলা প্রশাসক মহোদয় এসে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিদর্শন করে গেছেন।তিনি জেলার অভিভাবক কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নিলেন না।এতে আমরা হতাশা গ্রস্থ।
৭ দফা দাবির মধ্যে ছিল -খনির সৃষ্ট ভূমিকম্পের কারণে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ফাটলের ক্ষতিপূরণ অবিলম্বে দিতে হবে, ভূমি অধিগ্রহণের পূর্বে এলাকাবাসীর জনমত যাচাই করতে হবে, ভূমিহীনদের উচ্ছেদের পূর্বেই পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে, কয়লা খনির পার্শ্ববর্তী এলাকার রাস্তা-ঘাট মেরামত করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ছেলে-মেয়েদের দক্ষতার ভিত্তিতে চাকরির অগ্রাধিকার দিতে হবে, এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।

ট্যাগস :
আপডেট সময় ০৮:৫৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
৬৫ বার পড়া হয়েছে

জনবিক্ষোভ : অধিকার রক্ষায় বড়পুকুরিয়ায় লাঠি মিছিল

আপডেট সময় ০৮:৫৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী খনি কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অধিক পরিমাণে ক্ষতিপূরণের প্রত্যাশায় ফসলি জমিতে বহিরাগতদের নিম্নমানের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ ও লাঠি মিছিল করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জনসাধারণদের নিয়ে গঠিত তাদের দাবি আদায়ের সংগঠন ” কৃষি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটি এবং জীবন ও বসতভিটা রক্ষা কমিটি “র ব্যানারে কাজীপাড়া, চৌহাটি ও হামিদপুরের ৬ শতাধিক জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহণ করেন।বিক্ষোভ মিছিলটি কাজীপাড়া থেকে বের হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা প্রদক্ষিণ করে চৌহাটি এলাকা হয়ে হামিদপুর মোড়ে এসে সমবেত হয়।
এ সময় শিশু থেকে বৃদ্ধ, কৃষক -শ্রমিক থেকে শিক্ষিত বেকার যুবক প্রত্যেককে হাতে লাঠি নিয়ে অধিকার ও ন্যায্যতা আদায়ের জন্য স্লোগান দিতে থাকে।

গতকাল ৩ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেলে হামিদপুর মোড়ে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন- কৃষি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালমান মাহমুদ, সহ-সভাপতি মাহমুদুন্নবী মিলন, জীবন ও বসতিটা রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম তানজিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মিলন পারভেজ প্রমুখ।
কৃষি ও বসত বাড়ি রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালমান মাহমুদ বক্তব্যে বলেন, জমি অধিগ্রহণের কথা শুনে সুযোগ সন্ধানী কয়লা খনির কর্মকর্তারাসহ বহিরাগতরা একেক জন একবিঘা, দেড় বিঘা কৃষি শ্রেণির জমির মধ্যে অবৈধ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নমানের বিল্ডিং করছে। যা দুর্নীতির অন্তর্ভুক্ত। আমরা এই অনিয়মের পক্ষে নই। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়িত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই এলাকায় কোন জমি অধিগ্রহণ করতে দেয়া হবে না। খনিকর্তৃপক্ষ আমাদের এলাকায় না বলেই ড্রোন ছেড়ে ভিডিও করছে। আমরা তাদের হুশিয়ার করে দিতে চাই আগামীতে এমন কর্মসূচি দেয়া হবে যে, রাজপথ, রেলপথ সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হবে। আমরা চৌহাটি, কাজীপাড়া, হামিদপুর, বাঁশপুকুর এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজনদের নিয়ে আমাদের দাবি আদায় করে নিব। ইনশাআল্লাহ।

সংগঠনের সহ-সভাপতি মাহমুদুন্নবী মিলন বলেন, এই কয়লা খনি আমাদের ক্ষতি করছে। ঘরবাড়ি ফাটল ধরেছে। সর্বক্ষণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি।খনি কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি সার্ভে করার পরেও এ পর্যন্ত কোন ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন করেনি। তারা আমাদের সঙ্গে প্রহসন করছে। অবশেষে খনিকর্তৃপক্ষ আমাদের রাজপথে লাঠি নিয়ে বের হতে বাধ্য করেছে। এই লাঠি কয়লা খনির দালাল ও সুযোগ সন্ধানীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের উপর তারা যে অন্যায়, অবিচার চালিয়েছে
তা সাংবাদিক, প্রশাসনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অবগত আছেন। আমরা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, অবিলম্বে আমাদের দাবিগুলো যেন বাস্তবায়ন করা হয়। জনগণ রাষ্ট্রের সম্পদ, জনগণের উর্ধ্বে কিছু নয়। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য মাঠে নেমেছি। তিনি আরো বলেন,
জেলা প্রশাসক মহোদয় এসে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিদর্শন করে গেছেন।তিনি জেলার অভিভাবক কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নিলেন না।এতে আমরা হতাশা গ্রস্থ।
৭ দফা দাবির মধ্যে ছিল -খনির সৃষ্ট ভূমিকম্পের কারণে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ফাটলের ক্ষতিপূরণ অবিলম্বে দিতে হবে, ভূমি অধিগ্রহণের পূর্বে এলাকাবাসীর জনমত যাচাই করতে হবে, ভূমিহীনদের উচ্ছেদের পূর্বেই পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে, কয়লা খনির পার্শ্ববর্তী এলাকার রাস্তা-ঘাট মেরামত করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ছেলে-মেয়েদের দক্ষতার ভিত্তিতে চাকরির অগ্রাধিকার দিতে হবে, এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।