ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চিফ হুইপসহ ছয় হুইপ নিয়োগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপ পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে উল্লাপাড়ায় সংরক্ষিত নারী আসনের গণদাবি জোরালো দলীয় গতিশীলতা ও জনউন্নয়ন ত্বরান্বিত করার প্রত্যাশা প্যারিস খাল পরিদর্শনে ডিএনসিসি প্রশাসক: বর্ষার আগেই খনন–পরিষ্কারে জোর, দখলমুক্তে আইনগত পদক্ষেপের ঘোষণা কালুখালীতে নবাব ফ্যাশন হাউসের শুভ উদ্বোধন, ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত মিরপুরে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যুবদল নেতা আমিনুর রহমান শান্তর ইফতার কর্মসূচির ১১তম দিনেও সুশৃঙ্খল আয়োজন দিনাজপুরে চঞ্চল্যকর শিশু হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামীর স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি কালুখালী প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মানবিক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন নির্বাচনী এলাকায় সফরে এসে রোগিদের সেবা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মিরপুরে যুবনেতা বাবুল মোল্লার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল, প্রয়াত জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার জন্য

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাদশা ভাসানী

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন উপলক্ষে সকালে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, মেজর জিয়া জেড ফোর্স গেরিলা বাহিনীর একাধিক সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিক্সা , ভ্যান ও অটোচালক দল কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মিস্টার বাদশা ভাসানী।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনকালে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিক্সা,ভ্যান ও অটোচালক কমিটির  বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় কমান্ডার বাদশা ভাসানী বলেন,“শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাবিধুর দিন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিজয়ের একেবারে প্রাক্কালে জাতি হারিয়েছিল তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। এই দিনটি আমাদের জন্য গভীর শোক ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।”

তিনি বলেন, নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যখন বিজয় ছিল নিশ্চিত, ঠিক তখনই দেশীয় স্বাধীনতাবিরোধী চক্র রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। উদ্দেশ্য ছিল সদ্য স্বাধীন দেশকে মেধাশূন্য করা।

তিনি আরও বলেন,“১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে নির্মমভাবে হত্যা করে তাদের মরদেহ ফেলে রাখা হয় রায়েরবাজার ও মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে।”

পরদিন সকালে রায়েরবাজার ইটখোলা ও মিরপুরের ডোবা-নালা থেকে পাওয়া যায় অসংখ্য ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ। কারও শরীরে বুলেটের চিহ্ন, কারও হাতে-পায়ে বাঁধন, অনেককে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য গোটা জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

কমান্ডার বাদশা ভাসানী বলেন, বিভিন্ন গবেষণা, সংবাদপত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা প্রায় এক হাজার ৭০ জন। বাঙালি জাতির দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামে এই বুদ্ধিজীবীরা তাদের মেধা, মনন ও লেখনীর মাধ্যমে স্বাধীনতার আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছেন, দেখিয়েছেন মুক্তির পথ। স্বাধীনতার সেই অর্জন স্বাধীনতাবিরোধী চক্র কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি।

তিনি বলেন,“আজকের দিনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে আমাদের শপথ নিতে হবে—তাদের আদর্শ ধারণ করে দেশ, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”

শেষে তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

ট্যাগস :
আপডেট সময় ০৯:৪৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
৭২ বার পড়া হয়েছে

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাদশা ভাসানী

আপডেট সময় ০৯:৪৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন উপলক্ষে সকালে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, মেজর জিয়া জেড ফোর্স গেরিলা বাহিনীর একাধিক সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিক্সা , ভ্যান ও অটোচালক দল কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মিস্টার বাদশা ভাসানী।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনকালে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিক্সা,ভ্যান ও অটোচালক কমিটির  বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় কমান্ডার বাদশা ভাসানী বলেন,“শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাবিধুর দিন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিজয়ের একেবারে প্রাক্কালে জাতি হারিয়েছিল তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। এই দিনটি আমাদের জন্য গভীর শোক ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।”

তিনি বলেন, নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যখন বিজয় ছিল নিশ্চিত, ঠিক তখনই দেশীয় স্বাধীনতাবিরোধী চক্র রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। উদ্দেশ্য ছিল সদ্য স্বাধীন দেশকে মেধাশূন্য করা।

তিনি আরও বলেন,“১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে নির্মমভাবে হত্যা করে তাদের মরদেহ ফেলে রাখা হয় রায়েরবাজার ও মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে।”

পরদিন সকালে রায়েরবাজার ইটখোলা ও মিরপুরের ডোবা-নালা থেকে পাওয়া যায় অসংখ্য ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ। কারও শরীরে বুলেটের চিহ্ন, কারও হাতে-পায়ে বাঁধন, অনেককে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য গোটা জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

কমান্ডার বাদশা ভাসানী বলেন, বিভিন্ন গবেষণা, সংবাদপত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা প্রায় এক হাজার ৭০ জন। বাঙালি জাতির দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামে এই বুদ্ধিজীবীরা তাদের মেধা, মনন ও লেখনীর মাধ্যমে স্বাধীনতার আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছেন, দেখিয়েছেন মুক্তির পথ। স্বাধীনতার সেই অর্জন স্বাধীনতাবিরোধী চক্র কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি।

তিনি বলেন,“আজকের দিনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে আমাদের শপথ নিতে হবে—তাদের আদর্শ ধারণ করে দেশ, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”

শেষে তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।