ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি নেতাদের ষড়যন্ত্র মূলক বহিষ্কারের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে


ঢাকা মহানর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের সাতজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করায় মিরপুর ১০ নং বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলটি কাফরুল, মিরপুর ১০,শেওয়াড়াপাড়া হয়ে মিরপুর ১০ নং এ সমাবেশ করেন এবং বহিষ্কৃতরা বক্তব্য প্রদান করেন। বহিষ্কারাদে বলা হয়, তারা দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বহিষ্কার ও পদ স্থগিত করা হয়। রোববার (১৬ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দফতর সম্পাদক এ বি এম এ রাজ্জাক। তিনি জানান, রোববার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক এবং সদস্য সচিব মোস্তফা জামান এ বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেন। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন: ঢাকা মহানর উত্তরের (কাফরুল থানা) আওয়াতাধীন ৯৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কবির হোসেন মিল্টন, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু হানিফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আরিফ মৃধা, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির নিখিল এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম ভূঁইয়া ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য আহসান উল্লাহ চৌধুরী হাসান।এদিকে এই বহিষ্কার আদেশের প্রতিবাদে রোববার রাতে মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বহিষ্কৃত নেতা এবং তাদের অনুসারীরা। বিক্ষোভকালে তারা আমিনুল হক ও মোস্তফা জামানের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। পাশাপাশি তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে ন্যায় বিচার দাবি করেন। এ সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য আহসান উল্লাহ চৌধুরী হাসান বলেন, ত্যাগীদের মুল্যায়ন না করে সুবিধাবাদী হাইব্রিডদের মূল্যায়ন করে অর্থ হাতে নিচ্ছে আমিনুল হক।তার নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে তিনি এই কাজ করছেন। এর ফলে ত্যাগীরা বঞ্চিত হয়, হাইব্রিডরা সুযোগ পায় আর সুযোগ সন্ধানী লোকেরাই তার আশপাশে বেশি। আমরা এর প্রতিবাদ করাতে আমাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।বহিষ্কৃত নেতারা বলেন,
বিএনপি নেতা আমিনুলের শেল্টার ব্যবসা! শুরু করছেন গত ০৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের লোকজনে সুরক্ষা দিয়ে আসছে।যে ব্যক্তি শেখ হাসিনার সাথে ছিলেন,একই ব্যাক্তি আমিনুল হকের সঙ্গে বর্তমানে আছেন তার নাম সাইফুল, আশিয়ান সিটির চেয়ারম্যানের ভাই। ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার এই আসামিকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আমিনুল হক।ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৪৮ নং ওয়ার্ডের যুব বিষয়ক সম্পাদক কাউসার দেওয়ান হত্যা মামলার আসামি আশিয়ান সিটির চেয়ারম্যান সেই হত্যা মামলার আসামির জামিন জালিয়াতির মাধ্যমে ঘটিয়েছেন বলেও অভিযোগকরেছেন আমিনুল হককে।
যেহেতু এই হত্যা মমলার প্রধান আসামী আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। অভিযোগে উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে নিম্ন আদালতে জালিয়াতির মাধ্যমে জামিন নিয়েছেন বলে বহিস্কৃত নেতারা বলেন।
রহস্যজনক এই জামিনের কারন অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা আমিনুলের চাপে নিন্ম আদালত এ জামিন দিতে বাধ্য হয়।
আশিয়ান সিটি গত ১৫ বছরে সরকারি সুবিধা নিয়ে জমি দখল সহ নানা অপকর্ম করে আসছে। আশিয়ান গ্রুপের নজরুলের জয় বাংলার স্লোগান এখনো অনলাইনে আসে।
কত টাকার বিনিময়ে আমিনুল আশিয়ান সিটিকে সুরক্ষা দিচ্ছে। কত টাকায় নিজেকে আশিয়ান সিটির কাছে বিক্রি করেছে আমিনুল হক জানতে চান বিক্ষোভকারীরা। সেজন্য নেতারা বলেন, অনতিবিলম্বে বহিষ্কারাদেশ তুলে না নিলে বৃহত্তর কর্মসূচির হুমকি দেন নেতা এবং তাদের অনুসারীরা।