নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও সাংবাদিকদের আচরণবিধি বিষয়ে প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও নৈতিক সংবাদ চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে পরিচয়, দায়বদ্ধতা, নিরপেক্ষতা, পেশাগত ঐক্য ও নীতি – নৈতিকতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলেও মনে করেন তিনি।
দিনাজপুর সার্কেট হাউজ মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আয়োজিত ” গণমাধ্যমে অপসংবাদিকতা প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় করণীয়” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেন,নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায্য অধিকার আদায়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিগত সময়ে ঐক্যবদ্ধ না থাকার কারণে গণমাধ্যম কর্মীরা নিজেদের অধিকার আদায় করতে পারেননি।
বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য নির্বাচনী নীতিমালা ২০২৫, সাংবাদিকদের জন্য অনুকরণীয় আচরণবিধি -১৯৯৩(সংশোধিত ২০০২),বাংলাদেশ শ্রম আইন -২০০৬ এ সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রাসঙ্গিক ধারা সমূহ, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন -২০১৪,তথ্য অধিকার আইন -২০০৯, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ -২০২৫, প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ দায়েরের নিয়ম,সাংবাদিক এবং প্রকাশকদের শপথনামা প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার রিসোর্স পারসন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (উপসচিব) মো. আব্দুস সবুর বলেন , সাংবাদিকরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, জনকল্যাণে কাজ করে থাকে। এ পেশায় বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা একান্ত আবশ্যক। সাংবাদিকতা পেশায় মূলপুঁজি হচ্ছে সততা, নীতি -নৈতিকতা, নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতা। এর বাহিরে এলে এক কথায় অপসংবাদিকতা চলে আসবে। সাংবাদিকতা করতে হলে এই অপসংবাদিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
“শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড “-এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্লাসের শিক্ষকরাই শুধু শিক্ষক নন, সাম্প্রতিক বিশ্ব, চলমান ঘটনাবলি জীবন পরিচালনার পথে সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে আমরা জেনে থাকি। সেগুলো যদি অথেন্টিক না হয় জাতির কাছে ভুল ম্যাসেজ যাবে। তিনি নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ পরিবেশনে অবশ্যই রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো.রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাহসিকতার সঙ্গে সমাজের বাস্তবচিত্র তুলে ধরবেন।সত্যতা যাচাই না করে কাউকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য বা হেয় প্রতিপন্ন করা এ মহান পেশার কাজ নয়।তিনি সংবাদকর্মীদের নাযুক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, সংবাদপত্রের মালিক পক্ষরা সংবাদ কর্মীদের নিয়োগপত্র দিচ্ছে না এবং বেতন কাঠামোও ঘোষণা করছে না। অন্যান্য শ্রমিক, কর্মজীবীরা বেতন পাচ্ছেন। তবে সংবাদপত্রে কর্মরত সংবাদ কর্মীরা কেন পাচ্ছেন না! এই অধিকার নিশ্চিত না হলে কখনো বস্তুনিষ্ঠতা আসবে না, অপসংবাদিকতা বন্ধ হবে না। আসুন সকলে দেশটাকে পাল্টানোর জন্য কাজ করি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি এ আহবান জানান।
২ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা- পিপিএম সেবা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূর- ই- আলম সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) মো.রফিকুল আলম।
কর্মশালার প্রারম্ভে স্বাগত বক্তব্য দেন, জেলা তথ্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক (বিসিএস) সাদিয়া আফরিন শেফা। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সুপারেনটেন্ড মো.সাখাওয়াত হোসেন। বি পি সি আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলায় কর্মরত অর্ধশতাধিক গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের মাঝে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক সনদপত্র প্রদান করা হয়।
এ সময় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি অধ্যাপক মো.সাদাকাত আলী খান, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো.নুরুল হুদা দুলাল, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো.মাহফিজুল ইসলাম রিপন,বাসসের জেলা প্রতিনিধি মো. রুস্তম আলী মন্ডল, দৈনিক ভোরের আকাশের স্টাফ রিপোর্টার মাসউদ রানা প্রমূখ।


















