ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশে বাধা, ‘বড় বড় অফিসার’ প্রসঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর বিস্ফোরক দাবি ঘিরে প্রশ্নের ঝড়

ঢাকা–১৭ আসনের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খালেকুজ্জামান সম্প্রতি একটি বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গানম্যানসহ প্রবেশ করতে গেলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে বাধার মুখে পড়তে হয় বলে জানা গেছে।
এ সময় নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তিনি ঢাকা–১৭ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।ঘটনার এখানেই শেষ নয়। পরবর্তীতে তিনি আরও একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “৫ আগস্টের পর অনেক বড় বড় অফিসার এসে তাঁর পা ধরে বসে ছিলেন।”
এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সচেতন মহলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে।
প্রথমত,খালেকুজ্জামানের বক্তব্যে যে ‘বড় বড় অফিসার’-এর কথা বলা হয়েছে তারা কারা? তারা কি সামরিক বাহিনীর, নাকি বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা? নাকি এটি একটি অস্পষ্ট ও ভিত্তিহীন শব্দচয়ন?
দ্বিতীয়ত, একজন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা কোন যুক্তিতে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার পা ধরতে পারেন—এমন দাবি কতটা বাস্তবসম্মত? রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্বের সঙ্গে এই বক্তব্য সাংঘর্ষিক নয় কি?
তৃতীয়ত, যদি এমন ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তবে তার পেছনে কারণ কী? ভয়, চাপ, নাকি কোনো ধরনের গোপন সমঝোতা? আর এসব গুরুতর অভিযোগের পক্ষে কি কোনো প্রমাণ আছে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অস্পষ্ট বক্তব্য শুধু বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করে। নির্বাচনকালীন সময়ে এমন দাবি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, যিনি জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধি হতে চান, তাঁর উচিত দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহার করা এবং যেকোনো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণসহ জনসম্মুখে উপস্থাপন করা। অন্যথায় এসব বক্তব্য রাজনৈতিক কৌশল বা আলোচনায় থাকার চেষ্টা হিসেবেই বিবেচিত হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও খালেকুজ্জামানের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

















