ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ঢাকার নতুন জেলা প্রশাসক ফরিদাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার মিশ্র প্রতিক্রিয়া নব-যোগদানকৃত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কালুখালী উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সাশ্রয়ী খাবার: নোয়াবের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ১৫০ টাকার মধ্যেই লাঞ্চ ও নাস্তা মিরপুরে ময়লা অপসারণে বিশৃঙ্খলা, দখল ও হুমকির অভিযোগে বাড়ছে ভোগান্তি নড়াইলে গরু চুরি মামলার মূল হোতা গ্রেফতার সোলায়মান হক জোয়ারদারের সময়কার প্রভাবের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গায় চিকিৎসক দম্পতিকে ঘিরে বিতর্ক উল্লাপাড়ায় স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের সমন্বয়ে টেকসই সমাজ গঠনের আহ্বান পেশাজীবীদের পহেলা বৈশাখে মিরপুরে পান্তা-ভাতের আয়োজন বাবুল মোল্লার উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী -তারেক রহমান

বন্ধুকে হত্যার অভিযোগে মনোজিৎ গ্রেফতার

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার রনটি গ্রামে টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে বন্ধু সাধন চন্দ্র রায় (২৫) কে হত্যা করেছে মনোজিৎ রায় (২৬) ওরফে মম নামের এক যুবক। হত্যার চার দিন পর শুক্রবার (২৭ জুন) মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মনোজিৎ জানায়, নিহত সাধনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও সে পুকুরে ফেলে রেখেছে। তার দেখানো মতে শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় বোচাগঞ্জ উপজেলার ঈশানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর পুকুরপাড়েই আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন।

পুলিশ সুপার জানান, নিহত সাধন ও অভিযুক্ত মনোজিৎ ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। গত ৩ মে মনোজিৎ সাধনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নেন। চুক্তি ছিল ৩ জুনের মধ্যে তা পরিশোধ করবেন এবং অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা সুদ দেবেন। তবে নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না দেওয়ায় বিষয়টি সাধনের পরিবারে জানাজানি হয়।

পরে সাধনের মা মনোজিতের মাকে বিষয়টি জানালে, তিনি ছেলেকে বকাঝকা করেন। এতে মনোজিৎ ক্ষিপ্ত হয়ে গত সোমবার (২৩ জুন) রাতে সাধনকে ডেকে নিয়ে যান ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বাড়ির পুকুরপাড়ে। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাসের লাঠি দিয়ে আঘাত করে সাধনকে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ পুকুরে ফেলে দেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন মনোজিৎ।

ঘটনার দিনই বোচাগঞ্জ থানায় সাধনের পরিবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন বলেন, “অপরাধ করে কেউ দিনাজপুরে পার পাবে না। আমরা প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনছি।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সিফাত-ই-রাব্বানী, কাহারোল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান এবং বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার প্রমুখ।

ট্যাগস :
আপডেট সময় ১২:২১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
১৯৭ বার পড়া হয়েছে

বন্ধুকে হত্যার অভিযোগে মনোজিৎ গ্রেফতার

আপডেট সময় ১২:২১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার রনটি গ্রামে টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে বন্ধু সাধন চন্দ্র রায় (২৫) কে হত্যা করেছে মনোজিৎ রায় (২৬) ওরফে মম নামের এক যুবক। হত্যার চার দিন পর শুক্রবার (২৭ জুন) মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মনোজিৎ জানায়, নিহত সাধনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও সে পুকুরে ফেলে রেখেছে। তার দেখানো মতে শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় বোচাগঞ্জ উপজেলার ঈশানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর পুকুরপাড়েই আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন।

পুলিশ সুপার জানান, নিহত সাধন ও অভিযুক্ত মনোজিৎ ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। গত ৩ মে মনোজিৎ সাধনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নেন। চুক্তি ছিল ৩ জুনের মধ্যে তা পরিশোধ করবেন এবং অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা সুদ দেবেন। তবে নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না দেওয়ায় বিষয়টি সাধনের পরিবারে জানাজানি হয়।

পরে সাধনের মা মনোজিতের মাকে বিষয়টি জানালে, তিনি ছেলেকে বকাঝকা করেন। এতে মনোজিৎ ক্ষিপ্ত হয়ে গত সোমবার (২৩ জুন) রাতে সাধনকে ডেকে নিয়ে যান ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বাড়ির পুকুরপাড়ে। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাসের লাঠি দিয়ে আঘাত করে সাধনকে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ পুকুরে ফেলে দেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন মনোজিৎ।

ঘটনার দিনই বোচাগঞ্জ থানায় সাধনের পরিবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন বলেন, “অপরাধ করে কেউ দিনাজপুরে পার পাবে না। আমরা প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনছি।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সিফাত-ই-রাব্বানী, কাহারোল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান এবং বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার প্রমুখ।