ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
পহেলা মে মুক্তি পাচ্ছে গাজী রাকায়েতের “মানুষটিকে দেখ” চিকিৎসা সেবায় অরবিন্দ শিশু হাসপাতালের ভূমিকা অনন্য : সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, এমপি জাতীয় ম্যাগাজিন ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’র ৩২ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র শেরে বাংলা নগর থানা কমিটি অনুমোদন ও ছাদ কৃষিতে উৎসাহ সৃষ্টির জন্য বীজ বিতরণ ঢাকার নতুন জেলা প্রশাসক ফরিদাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার মিশ্র প্রতিক্রিয়া নব-যোগদানকৃত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কালুখালী উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সাশ্রয়ী খাবার: নোয়াবের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ১৫০ টাকার মধ্যেই লাঞ্চ ও নাস্তা মিরপুরে ময়লা অপসারণে বিশৃঙ্খলা, দখল ও হুমকির অভিযোগে বাড়ছে ভোগান্তি নড়াইলে গরু চুরি মামলার মূল হোতা গ্রেফতার সোলায়মান হক জোয়ারদারের সময়কার প্রভাবের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গায় চিকিৎসক দম্পতিকে ঘিরে বিতর্ক

সাভারে অসহায় বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

ঢাকার সাভারে প্রভাবশালীরা জমি দখল করতে একটি অসহায় পরিবারের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর মিথ্যে মামলা ও বিভিন্নভাবে হয়রানি মূলক নির্যাতন করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে নির্যাতিত পরিবারের জমির মালিক এক অসহায় বৃদ্ধা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
জানা গেছে ১৯৯৭ সালে উপজেলার উত্তর মেইটকা গ্রামের মোঃ শামসুর রহমান ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর শামসুর রহমানের নামে যথারিতি নামজারি হয় এবং তিনি জমি
দখলে নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। জমির মৌজা- বরতৈল, খতিয়ান- আর.এস-৫২, দাগআর.এস- ২৪৫।

২০১২ সালে শামসুর রহমান তার স্ত্রী মোছাঃ শামসুন নাহারকে হেবা করে ওই ১৩ শতাংশ জমি লিখে দেন, যার নামজারির খতিয়ান- ১১০৯, বিডিএস খতিয়ান- ৫৮৫, বিডিএস দাগ- ৬৮৪।
বর্তমান সন পর্যন্ত খাজনা দিয়ে দখলে আছেন তারা। ঝাউচর বরতৈল বাজার গ্রামের প্রভাবশালীদের নজরে পড়ে ওই জমি। বিভিন্নভাবে জমিটি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠে তারা। শুরু হয় নানা ধরনের হয়রানি মূলক নির্যাতন। তাদের এমন হয়রানি মূলক ও মানসিক
নির্যাতনে ধুকে ধুকে মারা যান শামসুর রহমান।
এই সুযোগে ওই প্রভাবশালীদের মধ্যে হেমায়েতপুরের ঝাউচর বরতৈল বাজার গ্রামের কছুমদ্দিনের ছেলে মোঃ জহির, ছামির আলীর ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোজাম্মেলের ছেলে মোঃ এমদাদ, রাজধানীর জিগাতলার মোঃ শরাফত উল্লাহর ছেলে মোঃ নূর নবী, সনাতনগড়ের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন সহ আরো স্থানীয় লোকজন এলাকার প্রভাবখাটিয়ে ওই বৃদ্ধার জমি বর্তমানে দখল করতে চেষ্টা করছে। এ বছর তাদের রোপনকৃত পাটশাকের উপর অসৎ উদ্দেশ্যে ধইনচা দানা ছিটিয়ে দেয়, পেয়ারা গাছ, সুপারি গাছ, কাঠ গাছ তুলে ফেলে দিয়ে জমিতে যেতে ভয়ভীতি দেখায়। জমির ওয়াল বাউন্ডারী ভেঙ্গে ফেলে ও তাদের নামীয় সাইনবোর্ডের নাম মুছে দেয়।
অসহায় বৃদ্ধা শামসুন নাহারের ছেলে সামিউর রহমান জানান, এ পর্যন্ত তারা আমার বড় ভাই মোঃ অহিদুর রহমান, আমার মা ও বোন জামাইয়ের নামে মিথ্যে চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে অনেক হয়রানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সম্মান হানি করেছে। প্রতিনিয়ত ওই ভূমিদস্যুদের হুমকিতে আমরা পরিবারের সকলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তার বড় ছেলে অহিদুর রহমান বলেন, আমার বাবা শামসুর রহমান তাদের এরকম হয়রানী মূলক
অত্যাচারে অসুস্থ হয়ে ধুকে ধুকে মারা যায়।
জমিতে আমরা শাকসবজি ও ফসল লাগালে সেগুলো
তারা নষ্ট করে দিচ্ছে। তাদের অত্যাচারে আমার মা অত্যাধিক পরিমানে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে একই কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত।
অসহায় বৃদ্ধা শামসুন নাহার জানান ভূমিদস্যুদের অত্যাচারে আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে ধুকে ধুকে
মারা গেছে। এখন এই ভূমিদস্যু জহির, সাইফুল গংদের অত্যাচারে আমি হার্ডএ্যাটাক করেছি।
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে আমি ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। এখন বাসায় এসেও ওদের
জন্য শান্তি পাচ্ছিনা। আমার স্বামীর সম্পত্তি রক্ষায় এভাবে অত্যাচারের শিকার হচ্ছি। এতো কিছুর পরও এর প্রতিকার পাচ্ছিনা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জহিরের সাথে কথা বলতে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে কল করলেও তিনি জহির নয় বলে অস্বীকার করেন।
আরেক অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, জমি তাদের হলে তারা কাগজপত্র নিয়ে বসে সমাধান করতে পারে। এছাড়া জমির ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। আমাকে অযথা অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপডেট সময় ১১:২১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
১৩১ বার পড়া হয়েছে

সাভারে অসহায় বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:২১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫

 

ঢাকার সাভারে প্রভাবশালীরা জমি দখল করতে একটি অসহায় পরিবারের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর মিথ্যে মামলা ও বিভিন্নভাবে হয়রানি মূলক নির্যাতন করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে নির্যাতিত পরিবারের জমির মালিক এক অসহায় বৃদ্ধা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
জানা গেছে ১৯৯৭ সালে উপজেলার উত্তর মেইটকা গ্রামের মোঃ শামসুর রহমান ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর শামসুর রহমানের নামে যথারিতি নামজারি হয় এবং তিনি জমি
দখলে নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। জমির মৌজা- বরতৈল, খতিয়ান- আর.এস-৫২, দাগআর.এস- ২৪৫।

২০১২ সালে শামসুর রহমান তার স্ত্রী মোছাঃ শামসুন নাহারকে হেবা করে ওই ১৩ শতাংশ জমি লিখে দেন, যার নামজারির খতিয়ান- ১১০৯, বিডিএস খতিয়ান- ৫৮৫, বিডিএস দাগ- ৬৮৪।
বর্তমান সন পর্যন্ত খাজনা দিয়ে দখলে আছেন তারা। ঝাউচর বরতৈল বাজার গ্রামের প্রভাবশালীদের নজরে পড়ে ওই জমি। বিভিন্নভাবে জমিটি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠে তারা। শুরু হয় নানা ধরনের হয়রানি মূলক নির্যাতন। তাদের এমন হয়রানি মূলক ও মানসিক
নির্যাতনে ধুকে ধুকে মারা যান শামসুর রহমান।
এই সুযোগে ওই প্রভাবশালীদের মধ্যে হেমায়েতপুরের ঝাউচর বরতৈল বাজার গ্রামের কছুমদ্দিনের ছেলে মোঃ জহির, ছামির আলীর ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোজাম্মেলের ছেলে মোঃ এমদাদ, রাজধানীর জিগাতলার মোঃ শরাফত উল্লাহর ছেলে মোঃ নূর নবী, সনাতনগড়ের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন সহ আরো স্থানীয় লোকজন এলাকার প্রভাবখাটিয়ে ওই বৃদ্ধার জমি বর্তমানে দখল করতে চেষ্টা করছে। এ বছর তাদের রোপনকৃত পাটশাকের উপর অসৎ উদ্দেশ্যে ধইনচা দানা ছিটিয়ে দেয়, পেয়ারা গাছ, সুপারি গাছ, কাঠ গাছ তুলে ফেলে দিয়ে জমিতে যেতে ভয়ভীতি দেখায়। জমির ওয়াল বাউন্ডারী ভেঙ্গে ফেলে ও তাদের নামীয় সাইনবোর্ডের নাম মুছে দেয়।
অসহায় বৃদ্ধা শামসুন নাহারের ছেলে সামিউর রহমান জানান, এ পর্যন্ত তারা আমার বড় ভাই মোঃ অহিদুর রহমান, আমার মা ও বোন জামাইয়ের নামে মিথ্যে চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে অনেক হয়রানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সম্মান হানি করেছে। প্রতিনিয়ত ওই ভূমিদস্যুদের হুমকিতে আমরা পরিবারের সকলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তার বড় ছেলে অহিদুর রহমান বলেন, আমার বাবা শামসুর রহমান তাদের এরকম হয়রানী মূলক
অত্যাচারে অসুস্থ হয়ে ধুকে ধুকে মারা যায়।
জমিতে আমরা শাকসবজি ও ফসল লাগালে সেগুলো
তারা নষ্ট করে দিচ্ছে। তাদের অত্যাচারে আমার মা অত্যাধিক পরিমানে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে একই কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত।
অসহায় বৃদ্ধা শামসুন নাহার জানান ভূমিদস্যুদের অত্যাচারে আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে ধুকে ধুকে
মারা গেছে। এখন এই ভূমিদস্যু জহির, সাইফুল গংদের অত্যাচারে আমি হার্ডএ্যাটাক করেছি।
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে আমি ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। এখন বাসায় এসেও ওদের
জন্য শান্তি পাচ্ছিনা। আমার স্বামীর সম্পত্তি রক্ষায় এভাবে অত্যাচারের শিকার হচ্ছি। এতো কিছুর পরও এর প্রতিকার পাচ্ছিনা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জহিরের সাথে কথা বলতে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে কল করলেও তিনি জহির নয় বলে অস্বীকার করেন।
আরেক অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, জমি তাদের হলে তারা কাগজপত্র নিয়ে বসে সমাধান করতে পারে। এছাড়া জমির ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। আমাকে অযথা অভিযুক্ত করা হয়েছে।