ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
পহেলা মে মুক্তি পাচ্ছে গাজী রাকায়েতের “মানুষটিকে দেখ” চিকিৎসা সেবায় অরবিন্দ শিশু হাসপাতালের ভূমিকা অনন্য : সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, এমপি জাতীয় ম্যাগাজিন ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’র ৩২ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র শেরে বাংলা নগর থানা কমিটি অনুমোদন ও ছাদ কৃষিতে উৎসাহ সৃষ্টির জন্য বীজ বিতরণ ঢাকার নতুন জেলা প্রশাসক ফরিদাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার মিশ্র প্রতিক্রিয়া নব-যোগদানকৃত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কালুখালী উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সাশ্রয়ী খাবার: নোয়াবের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ১৫০ টাকার মধ্যেই লাঞ্চ ও নাস্তা মিরপুরে ময়লা অপসারণে বিশৃঙ্খলা, দখল ও হুমকির অভিযোগে বাড়ছে ভোগান্তি নড়াইলে গরু চুরি মামলার মূল হোতা গ্রেফতার সোলায়মান হক জোয়ারদারের সময়কার প্রভাবের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গায় চিকিৎসক দম্পতিকে ঘিরে বিতর্ক

রাজবাড়ীতে পাংশায় স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন

মিজানুর রহমান

রাজবাড়ীর পাংশায় স্বামী শহিদ মন্ডল হত্যা মামলায় স্ত্রী রহিমা খাতুন ও পরকীয়া প্রেমিক সোহেলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জয়নাল আবেদীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামি পলাতক ছিল।

সোহেল পাংশা উপজেলার কাজিয়ালপাড়া গ্রামের জিয়া উদ্দিনের ছেলে এবং রহিমা একই গ্রামের নিহত শহিদ মন্ডলের স্ত্রী।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৯ মার্চ থেকে ১০ মার্চ রাত ২টার সময় পাংশা উপজেলার কাজিয়ালপাড়া গ্রামের মৃত জয়নাল মন্ডলের ছেলে শহিদ মন্ডলকে তার স্ত্রী রহিমা খাতুন ও পরকীয়া প্রেমিক সোহেল শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ী ২ নম্বর আমলী আদালতে শহীদ মন্ডলের ভাই শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে সোহেলসহ ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পাংশা মডেল থানায় রেকর্ড হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রহিমা খাতুনকে গ্রেফতার করে।

তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তিনি জানান, বিয়ের আশ্বাসে পরকীয়া প্রেমিক সোহেলের কথা মতো দুধের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে স্বামী শহিদ মন্ডলকে খাওয়ান। পরে ঘুমিয়ে পড়লে সোহেল ঘরে ঢুকে গামছা দিয়ে নাক, মুখ বেঁধে গলায় টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। সোহেল চলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর তিনি চিৎকার করে লোকজনকে ডাকেন। আমাকে বিয়ের আশ্বাস দেয় সোহেল। এরপর মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে রহিমা খাতুন পালিয়ে যান।

রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চাঞ্চল্যকর শহিদ মন্ডল হত্যা মামলায় পরকীয়া প্রেমিক সোহেল ও স্ত্রী রহিমা খাতুনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে রায় ঘোষণার সময় ২ জনই পলাতক ছিল।

ট্যাগস :
আপডেট সময় ০১:৩৯:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
৬৭ বার পড়া হয়েছে

রাজবাড়ীতে পাংশায় স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০১:৩৯:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

রাজবাড়ীর পাংশায় স্বামী শহিদ মন্ডল হত্যা মামলায় স্ত্রী রহিমা খাতুন ও পরকীয়া প্রেমিক সোহেলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জয়নাল আবেদীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামি পলাতক ছিল।

সোহেল পাংশা উপজেলার কাজিয়ালপাড়া গ্রামের জিয়া উদ্দিনের ছেলে এবং রহিমা একই গ্রামের নিহত শহিদ মন্ডলের স্ত্রী।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৯ মার্চ থেকে ১০ মার্চ রাত ২টার সময় পাংশা উপজেলার কাজিয়ালপাড়া গ্রামের মৃত জয়নাল মন্ডলের ছেলে শহিদ মন্ডলকে তার স্ত্রী রহিমা খাতুন ও পরকীয়া প্রেমিক সোহেল শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ী ২ নম্বর আমলী আদালতে শহীদ মন্ডলের ভাই শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে সোহেলসহ ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পাংশা মডেল থানায় রেকর্ড হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রহিমা খাতুনকে গ্রেফতার করে।

তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তিনি জানান, বিয়ের আশ্বাসে পরকীয়া প্রেমিক সোহেলের কথা মতো দুধের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে স্বামী শহিদ মন্ডলকে খাওয়ান। পরে ঘুমিয়ে পড়লে সোহেল ঘরে ঢুকে গামছা দিয়ে নাক, মুখ বেঁধে গলায় টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। সোহেল চলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর তিনি চিৎকার করে লোকজনকে ডাকেন। আমাকে বিয়ের আশ্বাস দেয় সোহেল। এরপর মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে রহিমা খাতুন পালিয়ে যান।

রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চাঞ্চল্যকর শহিদ মন্ডল হত্যা মামলায় পরকীয়া প্রেমিক সোহেল ও স্ত্রী রহিমা খাতুনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে রায় ঘোষণার সময় ২ জনই পলাতক ছিল।