ঢাকা ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
কালুখালী প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মানবিক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন নির্বাচনী এলাকায় সফরে এসে রোগিদের সেবা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মিরপুরে যুবনেতা বাবুল মোল্লার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল, প্রয়াত জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার জন্য রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য’র সাথে কালুখালী উপজেলায় কর্মরত সকল সরকারি দপ্তরের প্রধানদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা মিরপুরে মাসব্যাপী ইফতার মাহফিলের আয়োজন, যুবদল নেতা আমিনুর রহমান শান্তর উদ্যোগে প্রশংসার জোয়ার চড়াই–উতরাই পেরিয়ে পুলিশের শীর্ষে: এপিবিএন প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির নতুন আইজিপি মুকুলে সোনালি স্বপ্ন: রাজশাহীতে বাম্পার আম ফলনের আভাস বাংলাদেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর নিয়োগ, বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন ডিএনসিসির নবনিযুক্ত প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে মিরপুর থানা যুবদলের ফুলেল শুভেচ্ছা

কৃষকের মুখে হাসি ধানের জমিতে মাছ চাষ: দ্বিগুণ ফসল, দ্বিগুণ সম্ভাবনা

আবুল কালাম আজাদ

বাংলাদেশের কৃষি আজ বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। সীমিত জমি, বাড়তি উৎপাদন ব্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষকদের বিকল্প ও লাভজনক চাষপদ্ধতির দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় ধানের জমিতে মাছ চাষ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

এই পদ্ধতিতে একই জমিতে ধান ও মাছ একসঙ্গে চাষ করা হয়। ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, কৃষকের আয় বাড়ে এবং পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়।

ধানের জমিতে মাছ চাষের জন্য নিচু বা মাঝারি উঁচু জমি সবচেয়ে উপযোগী, যেখানে ৪ – ৫ মাস পানি ধরে রাখা যায়। জমির চারদিকে ১ থেকে ১.৫ ফুট উঁচু বাঁধ তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি জমির এক পাশে বা চার কোণে মোট জমির ৫–১০ শতাংশ জায়গা নিয়ে নালা বা গর্ত রাখতে হয়, যা মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।

ধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে পানিসহিষ্ণু ও দীর্ঘমেয়াদি জাত বেশি উপযোগী। BR11, BRRI dhan 49, BRRI dhan 52 ছাড়াও উপযোগী দেশি জাত ব্যবহার করা যায়। মাছের ক্ষেত্রে দেশি ও চাষযোগ্য মাছের মিশ্রচাষে ভালো ফলন পাওয়া যায়। টেংরা, পুঁটি, মলা, কৈ, শিংয়ের পাশাপাশি রুই, কাতলা, মৃগেল বা তেলাপিয়া চাষ করা যেতে পারে।

ধান রোপণের ১৫–২০ দিন পর মাছের পোনা ছাড়তে হয়। প্রতি শতাংশ জমিতে গড়ে ২০–৩০টি পোনা ছাড়া নিরাপদ। পোনার ওজন ৫–১০ গ্রাম হলে বেঁচে থাকার হার বেশি হয়। ধানের জমিতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের খাদ্য তৈরি হয় বলে অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন কম পড়ে। প্রয়োজনে অল্প পরিমাণ ভুসি বা খৈল দেওয়া যেতে পারে।

পানি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। ধানের জন্য ৪–৬ ইঞ্চি পানি যথেষ্ট। অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে সংযমী হতে হবে, কারণ এগুলো মাছের জন্য ক্ষতিকর। সম্ভব হলে জৈব ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করাই উত্তম।
ধান কাটার সময় আংশিকভাবে মাছ সংগ্রহ করা যায় এবং ধান কাটার পর সম্পূর্ণ মাছ আহরণ সম্ভব। এতে একই জমি থেকে দুটি ফসল পাওয়া যায়, যা কৃষকের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।

সবশেষে বলা যায়, ধানের জমিতে মাছ চাষ একটি লাভজনক, পরিবেশবান্ধব ও পুষ্টিসমৃদ্ধ কৃষি পদ্ধতি। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার মাধ্যমে এই সমন্বিত চাষব্যবস্থা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
কেন্দ্রীয় সভাপতি
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন(BPF)
কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার।
উপদেষ্টা: —
দৈনিক গ্রামীণ কৃষি,দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ
দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা পত্রিকা।
EX. সিনিয়র শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা)
কৃষি বিষয়ক বহু গ্রন্থের লেখক

ট্যাগস :
আপডেট সময় ০২:৪৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৯ বার পড়া হয়েছে

কৃষকের মুখে হাসি ধানের জমিতে মাছ চাষ: দ্বিগুণ ফসল, দ্বিগুণ সম্ভাবনা

আপডেট সময় ০২:৪৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের কৃষি আজ বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। সীমিত জমি, বাড়তি উৎপাদন ব্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষকদের বিকল্প ও লাভজনক চাষপদ্ধতির দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় ধানের জমিতে মাছ চাষ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

এই পদ্ধতিতে একই জমিতে ধান ও মাছ একসঙ্গে চাষ করা হয়। ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, কৃষকের আয় বাড়ে এবং পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়।

ধানের জমিতে মাছ চাষের জন্য নিচু বা মাঝারি উঁচু জমি সবচেয়ে উপযোগী, যেখানে ৪ – ৫ মাস পানি ধরে রাখা যায়। জমির চারদিকে ১ থেকে ১.৫ ফুট উঁচু বাঁধ তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি জমির এক পাশে বা চার কোণে মোট জমির ৫–১০ শতাংশ জায়গা নিয়ে নালা বা গর্ত রাখতে হয়, যা মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।

ধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে পানিসহিষ্ণু ও দীর্ঘমেয়াদি জাত বেশি উপযোগী। BR11, BRRI dhan 49, BRRI dhan 52 ছাড়াও উপযোগী দেশি জাত ব্যবহার করা যায়। মাছের ক্ষেত্রে দেশি ও চাষযোগ্য মাছের মিশ্রচাষে ভালো ফলন পাওয়া যায়। টেংরা, পুঁটি, মলা, কৈ, শিংয়ের পাশাপাশি রুই, কাতলা, মৃগেল বা তেলাপিয়া চাষ করা যেতে পারে।

ধান রোপণের ১৫–২০ দিন পর মাছের পোনা ছাড়তে হয়। প্রতি শতাংশ জমিতে গড়ে ২০–৩০টি পোনা ছাড়া নিরাপদ। পোনার ওজন ৫–১০ গ্রাম হলে বেঁচে থাকার হার বেশি হয়। ধানের জমিতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের খাদ্য তৈরি হয় বলে অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন কম পড়ে। প্রয়োজনে অল্প পরিমাণ ভুসি বা খৈল দেওয়া যেতে পারে।

পানি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। ধানের জন্য ৪–৬ ইঞ্চি পানি যথেষ্ট। অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে সংযমী হতে হবে, কারণ এগুলো মাছের জন্য ক্ষতিকর। সম্ভব হলে জৈব ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করাই উত্তম।
ধান কাটার সময় আংশিকভাবে মাছ সংগ্রহ করা যায় এবং ধান কাটার পর সম্পূর্ণ মাছ আহরণ সম্ভব। এতে একই জমি থেকে দুটি ফসল পাওয়া যায়, যা কৃষকের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।

সবশেষে বলা যায়, ধানের জমিতে মাছ চাষ একটি লাভজনক, পরিবেশবান্ধব ও পুষ্টিসমৃদ্ধ কৃষি পদ্ধতি। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার মাধ্যমে এই সমন্বিত চাষব্যবস্থা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
কেন্দ্রীয় সভাপতি
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন(BPF)
কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার।
উপদেষ্টা: —
দৈনিক গ্রামীণ কৃষি,দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ
দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা পত্রিকা।
EX. সিনিয়র শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা)
কৃষি বিষয়ক বহু গ্রন্থের লেখক