http://মিরপুরে ময়লা অপসারণে বিশৃঙ্খলা, দখল ও হুমকির অভিযোগে বাড়ছে ভোগান্তি রাজধানীর মিরপুর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ময়লা অপসারণ কার্যক্রমে চরম অনিয়ম, দখল-বাণিজ্য ও ভয়ভীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে ময়লা সংগ্রহ না করায় অনেক এলাকায় ৪ থেকে ৫ দিন ধরে আবর্জনা জমে থাকছে, ফলে বাসিন্দাদের দুর্ভোগের পাশাপাশি তীব্র দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় ময়লা অপসারণ না হওয়ায় বিভিন্ন বাসার সামনে আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিয়মিত ময়লা না নেওয়ায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে এবং রোগব্যাধির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ‘রুমা এন্টারপ্রাইজ’-এর এক ভ্যানগাড়ি চালকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর তিনি সেদিন প্রথম ময়লা তুলতে এসেছেন। তার সঙ্গে দুইজন প্রায় ১০ বছর বয়সী শিশুকে কাজ করতে দেখা যায়। তিনি জানান, তার মাসিক বেতন ১৬ হাজার টাকা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘রুমা এন্টারপ্রাইজ’ নাম ব্যবহার করে প্রতিটি ফ্ল্যাট থেকে মাসিক ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে হারুনুর রশিদ-এর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, যিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক বলে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে টেন্ডারের মাধ্যমে ‘লাকি’ নামের এক ব্যক্তি নিয়মিত ময়লা অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তবে গত ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অভিযোগ রয়েছে, হারুন ও মন্টু বাহিনীর লোকজন জোরপূর্বক লাকির নিয়ন্ত্রণে থাকা ভ্যানচালকদের মারধর করে ময়লা সংগ্রহের কার্যক্রম নিজেদের দখলে নেয়। একই সঙ্গে লাকিকে বিভিন্নভাবে ফোনে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী লাকি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কাছে বিচার চেয়েও কোনো সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এমনকি মিরপুর থানা-এ অভিযোগ জানাতে গেলে তাকেও পুনরায় হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি তার। সব মিলিয়ে ময়লা অপসারণ ব্যবস্থাপনা ঘিরে এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাসিন্দারা দ্রুত এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা নিয়মিত ময়লা অপসারণ নিশ্চিত করা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।