পরকীয়ার জেরে সংসার না করার অভিযোগে স্বামী কর্তৃক কোর্টে মামলা


নয় বছর বয়সী কন্যাসন্তানের জননী সোনিয়া পিতার পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে প্রথম স্বামী লেয়াকত আলীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটান এবং পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর তার মামা আলমগীর ও মা নুরুন্নাহার জাকিরের সাথে তার দ্বিতীয় বিয়ে দেন।
কিন্তু এই দাম্পত্য জীবনও মাত্র দেড় বছর স্থায়ী হয়। গত ০৮ই ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার সোনিয়া বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আর স্বামীর সংসারে ফিরে আসেননি। ১৫ দিন পর তিনি জাকিরকে তালাকের নোটিশ পাঠান। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ জাকির সোনিয়াকে ফিরিয়ে আনতে গেলে ব্যর্থ হন। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে জাকির পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করেন।
সোনিয়ার প্রথম বিয়ে হয় লেয়াকত আলীর সাথে, তাদের একটি নয় বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। সোনিয়ার বাবা একজন চা দোকানি এবং মা গৃহিণী। দুই বোনের মধ্যে সোনিয়া টাকার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পরপুরুষে আসক্ত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক পর্যায়ে লেয়াকতের সাথে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর সোনিয়ার মামা ও মায়ের উদ্যোগে জাকিরের সাথে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। কিন্তু এই সম্পর্কও বেশিদিন টেকেনি। মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
গত ০৮ই ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার সোনিয়া বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান এবং এরপর আর স্বামীর বাড়ি ফিরে আসেননি। ১৫ দিন পর জাকিরের কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান। এই পরিস্থিতিতে জাকির স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সোনিয়াকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন, কিন্তু সোনিয়ার পরিবার তাকে জামাইয়ের সাথে যেতে দেয়নি। পরে ইউপি চেয়ারম্যান জাকিরকে পারিবারিক আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।
জাকিরের দায়েরকৃত বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত ঢাকায় দাম্পত্য জীবন পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা নং- ২৭/২০২৫ বিয়ের তারিখ: ২৭/০২/২০২৩ ইং ১,৫০,০০০/- টাকার দেনমোহরে রেজিস্ট্রিকৃত কাবিনমূলে বিয়ে হয়।টনার সূত্রপাত: ০৮ই ডিসেম্বর, ২০২৪ (সোনিয়ার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া) অভিযোগ: সোনিয়াকে তার পরিবার আটকে রেখেছে এবং জাকিরের সাথে যোগাযোগ করতে দিচ্ছে না। জাকির স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার সব চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
কোর্টে মামলা করার বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির বলেন,
আমি সোনিয়াকে দেড় বছর আগে তার মামা ও মায়ের পরামর্শ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সোনিয়ার অন্য পুরুষের আকৃষ্টতা বুঝতে পারি তাকে বিভিন্ন ভাবে অনেকবার বুঝিয়েছি কিন্তু এখন সে আমাকে না জানিয়ে বাসা থেকে বাবার বাড়ি চলে যায় গিয়ের আর আসে না, বিভিন্ন গণ্যব্যক্তিকে সোনিয়াকে নিয়ে আসার চেষ্টা করি, শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে আমি কোর্টে দারস্ত হয়।আমি চাই সোনিয়াকে সংসার করতে।
এবিষয়ে, সোনিয়া গনমাধ্যমকে বলেন, এটা জাকির আর আমার একান্ত ব্যাক্তিগত ব্যাপার। আমিতো থানা পুলিশ কোর্টে অভিযোগ করিনি। তবে কেন জাকির আমার বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করবে আর আমাদের ব্যাক্তিগত বিষয়ে সংবাদিকদের করনীয় কী? তিনি এ বিষয়ে গনমাধ্যমের ক্যামেরায় কোন সাক্ষাৎকারদিতে রাজি নয়।
জাকিরের আইনজীবী জানান, তারা আদালতে সোনিয়াকে জাকিরের বৈধ স্ত্রী হিসেবে ঘোষণার পাশাপাশি আইন ও ইকুইটি অনুযায়ী অন্যান্য প্রতিকার চেয়েছেন, যা আদালত বিবেচনা করবে।