ঢাকা ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
নড়াইলে গরু চুরি মামলার মূল হোতা গ্রেফতার সোলায়মান হক জোয়ারদারের সময়কার প্রভাবের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গায় চিকিৎসক দম্পতিকে ঘিরে বিতর্ক উল্লাপাড়ায় স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের সমন্বয়ে টেকসই সমাজ গঠনের আহ্বান পেশাজীবীদের পহেলা বৈশাখে মিরপুরে পান্তা-ভাতের আয়োজন বাবুল মোল্লার উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী -তারেক রহমান বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন কাউন্সিলর প্রার্থী আমিনুর রহমান শান্ত বিতর্কিত আলী আফজালের নেতৃত্বে রিহ্যাব দখলের অভিযোগ, উদ্বেগ সংশ্লিষ্ট মহলে ঢাকা জিরো পয়েন্ট থেকে দিনাজপুরে জিরো পয়েন্ট দৌড়ে ইতিহাস গড়লেন তরুণ অ্যাথলেট সাকিব উৎসবমুখর পরিবেশে ফুলকুঁড়ি বিদ্যানিকেতনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

গাজীপুর মহাসড়কে ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য-ফুটপাত দখলের অভিযোগ,নিশ্চুপ প্রশাসন

গাজীপুর প্রতিবেদক

গাজীপুর মহানগরীর মহাসড়ক ও প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও অটো রিকশার অবাধ চলাচল এবং ফুটপাতে দোকান বসানোর অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। প্রতিদিন মহাসড়কে শত শত ইজিবাইক চলাচলের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

মহাসড়কে চলাচলকারী এক উবার চালক জানান,

“প্রতিদিন আমরা দেখি ইজিবাইকগুলো ট্রাফিক পুলিশের সামন দিয়েই মহাসড়কে চলে। এতে ভয়াবহ জ্যাম হয়। আমরা নিয়ম মেনে ট্যাক্স দিয়ে গাড়ি চালাই, অথচ মহাসড়কে চলার অনুপযুক্ত যানগুলো দিব্যি চলাচল করছে—কেন কিছু বলা হয় না, সেটা আমাদের বোধগম্য নয়।”

ইজিবাইক চালকদের সঙ্গে কথা বললে কয়েকজন দাবি করেন,

অন্যদিকে আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী অটো রিকশা চালকদের বক্তব্যে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। তাদের একজন বলেন,

“আমাদের ট্রাফিকের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা মহাসড়কে উঠলে গাড়ি ডাম্পিং করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা দিলেও গাড়ি ছাড় পেতে ১০–১৫ দিন লেগে যায়। এই সময় সংসার চলে না। তাই আমরা মহাসড়কে উঠি না।”

তিনি আরও বলেন,

“তাহলে এত হাজার হাজার ইজিবাইক কীভাবে মহাসড়কে চলে—এই প্রশ্নের একটাই উত্তর, তারা ট্রাফিকের সঙ্গে ‘ম্যানেজ’ করে চলে। নইলে এতগুলো গাড়ি একসঙ্গে চলা সম্ভব নয়।”

এদিকে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর কারণেও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। ফুটপাত দখলের ফলে মানুষকে বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে হাঁটতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এস এম আশরাফুল আলম-এর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিকদের প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে সাক্ষাত এড়িয়ে যান।

নগরবাসীর অভিযোগ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এই দ্বৈতনীতি ও নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তারা দ্রুত মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপডেট সময় ০৪:১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
৭৪ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর মহাসড়কে ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য-ফুটপাত দখলের অভিযোগ,নিশ্চুপ প্রশাসন

আপডেট সময় ০৪:১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজীপুর মহানগরীর মহাসড়ক ও প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও অটো রিকশার অবাধ চলাচল এবং ফুটপাতে দোকান বসানোর অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। প্রতিদিন মহাসড়কে শত শত ইজিবাইক চলাচলের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

মহাসড়কে চলাচলকারী এক উবার চালক জানান,

“প্রতিদিন আমরা দেখি ইজিবাইকগুলো ট্রাফিক পুলিশের সামন দিয়েই মহাসড়কে চলে। এতে ভয়াবহ জ্যাম হয়। আমরা নিয়ম মেনে ট্যাক্স দিয়ে গাড়ি চালাই, অথচ মহাসড়কে চলার অনুপযুক্ত যানগুলো দিব্যি চলাচল করছে—কেন কিছু বলা হয় না, সেটা আমাদের বোধগম্য নয়।”

ইজিবাইক চালকদের সঙ্গে কথা বললে কয়েকজন দাবি করেন,

অন্যদিকে আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী অটো রিকশা চালকদের বক্তব্যে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। তাদের একজন বলেন,

“আমাদের ট্রাফিকের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা মহাসড়কে উঠলে গাড়ি ডাম্পিং করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা দিলেও গাড়ি ছাড় পেতে ১০–১৫ দিন লেগে যায়। এই সময় সংসার চলে না। তাই আমরা মহাসড়কে উঠি না।”

তিনি আরও বলেন,

“তাহলে এত হাজার হাজার ইজিবাইক কীভাবে মহাসড়কে চলে—এই প্রশ্নের একটাই উত্তর, তারা ট্রাফিকের সঙ্গে ‘ম্যানেজ’ করে চলে। নইলে এতগুলো গাড়ি একসঙ্গে চলা সম্ভব নয়।”

এদিকে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর কারণেও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। ফুটপাত দখলের ফলে মানুষকে বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে হাঁটতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এস এম আশরাফুল আলম-এর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিকদের প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে সাক্ষাত এড়িয়ে যান।

নগরবাসীর অভিযোগ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এই দ্বৈতনীতি ও নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তারা দ্রুত মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।