ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন, কৃষকের ফসলহানি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলমান ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও কৃষকরা। শীতের তীব্রতায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আলু, ধান, পেঁয়াজ, শরিষা ও শীতকালীন সবজি চাষে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে উপজেলাজুড়ে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। সূর্যের দেখা না পাওয়ায় দিনের বেলাতেও শীতের প্রকোপ কমছে না। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে সিরাজগঞ্জ জেলায় তাপমাত্রা ৯ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে।
কৃষকরা জানান, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে সরিষা, আলু, ধানের চারা ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ইতোমধ্যে সরিষা ক্ষেতে ফুল আসতে শুরু করেছে, কিন্তু কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে ফুলে পচন ধরছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঝরে পড়ছে। ধানের চারা হলুদ হয়ে মারা যাচ্ছে। এছাড়া আলু ও বিভিন্ন সবজি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চাষিরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
শুধু কৃষকরাই নয়, সাধারণ মানুষও শীতের তীব্রতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে কাঁপছেন। অনেকেই সকাল ও সন্ধ্যায় ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এতে খেটে খাওয়া মানুষদের আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শীতবস্ত্র বিতরণ জোরদার করা এবং কৃষকদের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান জরুরি। অন্যথায় শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষি ও জনজীবনে আরও বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।m











