রক্তে কেনা মাতৃভাষা অঙ্গীকার হোক প্রমিত বাংলা ভাষার চর্চা


মানুষের ভাষার আদর্শ রুপ হচ্ছে প্রমিত ভাষা। প্রমিত ভাষায় কথা বললে সব অঞ্চলের মানুষ বুঝতে পারে। প্রমিত বাংলা ভাষা বলতে বোঝায় বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে আদর্শ ও আঞ্চলিক ভাষার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে এবং সবার সাথে যোগাযোগের সমান সুবিধা রক্ষা করা। যা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা অথাৎ দেশের নির্বাহী বা শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ তথা শিক্ষা,ব্যবসা, বানিজ্য, মিডিয়া সকল ক্ষেত্রে প্রমিত ভাষা ব্যবহার করা। মুলত প্রমিত বাংলা ভাষা শেখার, কথা বলা ও লেখার মূল লক্ষ্য হলো ভাষার একটি স্ট্যান্ডার্ড রুপ তৈরি করা এবং তার মাধ্যমে সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা।
রক্তের দাম দিয়ে কেনা বাংলা ভাষা। এজন্য বাংলা ভাষার একটা অভিন্ন মান ও প্রমিতি থাকা দরকার। প্রমিত বাংলা ভাষায় শেখা,কথা বলা ও লেখার জন্য সর্বপ্রথম প্রমিত বাংলা উচ্চারণ শেখা প্রয়োজন। প্রমিত বাংলা উচ্চারণই একটি সুশৃ্খংল ভাষারীতি মেনে চলে। প্রমিত বাংলা উচ্চারণ শেখার জন্য স্কুল পর্যায়ে শিক্ষাথীদের গুরুত্ব সহকারে প্রমিত ভাষায়, কথা বলা ও লেখার তাৎপর্যতা তুলে ধরা। যার ফলে বাংলা ভাষার উওরোওর উন্নয়নে বিশ্ব দরবারে এ ভাষার একটি পরিপাটি রুপের পরিচয় তুলে দরার প্রয়োজনে প্রমিত উচ্চারণ একান্ত দরকার। .
যদিও বাংলাদেশ বহু সংস্কৃতির দেশ। বিভিন্ন জেলা বা অঞ্চলে বিভিন্ন আঞ্চলিক উচ্চারণ ও ভাষা, তাতে তো কোন সমস্যা নেই। আর সেটা তো বদলানো ও সম্ভব নয়, প্রয়োজনও নেই। বরং সেটি আমাদের বেচিত্র্য ও সৌন্দর্য। কিন্তু বাংলা ভাষার প্রমিত উচ্চারণ তে ভিন্ন হতে পারে না। তাই সকল ক্ষেত্রে প্রমিত বাংলা উচ্চারণ করলেই প্রমিত বাংলা ভাষায় শেখা,কথা বলা ও লেখা সম্ভব।
প্রমিত বাংলা ভাষার চর্চাটা শুধু ভাষাবিশারদদের বা ভাষা গবেষকদের করলেই চলবে না। স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সামাজিক, সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রে প্রমিত বাংলা ব্যাবহার করতে হবে। উল্লেখিত ক্ষেত্রগুলোতে প্রমিত ভাষা শেখা,কথা বলা ও লেখা নিশ্চিত করতে পারলে ধীরে ধীরে তা আমাদের মতো সর্বসাধারণের মধ্যেও অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রমিত বাংলা ভাষায় শেখা, কথা বলা ও লেখার জন্য স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে কলেজ, বিশ্ববিদ্য্যালয়ে প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা দরকার । আমরা বিভিন্ন নিবিড় কর্মশালা ও ওরিয়েন্টেশন ব্যবস্থা করতে হবে। বিভিন্ন শিক্ষামুলক ওয়েবসাইট যেমন শিক্ষক বাতায়ন, মুক্তপাঠ,কিশোর বাতায়ন, টেন মিনিট স্কুল এসব ওয়েবসাইটের সাথে শিক্ষাথীদের যোগসূত্র তৈরি করে দেওয়া।
প্রমিত বাংলা ভাষায় শেখা, কথা বলা ও লেখার জন্য প্রচারের মাধ্যম হিসেবে মিড়িয়া গুরুত্বপূণ ভূমিকা পালন করে। একই ভাবে যারা প্রিন্ট মিড়িয়া ও ইলেকট্রনিক মিড়িয়া যেমন টেলিভিশনে কথা বলবেন (টকশো, সাক্ষাৎকার, উপস্থাপনা) ইত্যাদি অথবা সংবাদ পড়বেন, এমনকি কোনো টেলিভিশন চ্যানেল মাঠ থেকে রিপার্ট করবেন ইত্যাদি ক্ষেত্রে উচ্চারণের ভুল বা আঞ্চলিক দোষে দুষ্টতা অমার্জনীয় হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনভাবেই তাদের উপস্থাপনা ততক্ষণ পর্যন্ত জনসম্মুখে উপস্থাপিত হবে না, যতক্ষন পর্যন্ত সেটা নির্ভুল ও মানসম্মত না হয়। উল্লেখিত ক্ষেতগুলোতে প্রমিত বাংলা ভাষায় শেখা,কথা বলা ও লেখা নিশ্চিত করতে পারলে ধীরে ধীরে আমাদের সর্বস্তরের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আর তখনই প্রমিত বাংলা ভাষার চর্চার ক্ষেত্রটি আরও প্রসারিত হবে।
মো: রাজু আহমেদ
সহকারী শিক্ষক(বাংলা)
কে,এন,পি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লোহাগড়া, নড়াইল।