ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
পহেলা বৈশাখে মিরপুরে পান্তা-ভাতের আয়োজন বাবুল মোল্লার উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী -তারেক রহমান বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন কাউন্সিলর প্রার্থী আমিনুর রহমান শান্ত বিতর্কিত আলী আফজালের নেতৃত্বে রিহ্যাব দখলের অভিযোগ, উদ্বেগ সংশ্লিষ্ট মহলে ঢাকা জিরো পয়েন্ট থেকে দিনাজপুরে জিরো পয়েন্ট দৌড়ে ইতিহাস গড়লেন তরুণ অ্যাথলেট সাকিব উৎসবমুখর পরিবেশে ফুলকুঁড়ি বিদ্যানিকেতনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ উপনির্বাচন: দুই আসনেই বিএনপির বড় জয় পাংশায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত কালুখালীতে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড লোহাগড়ায় দাফনের ৭ মাস পর কবর থেকে পার্ক ম্যানেজারের লাশ উত্তোলন, তদন্তে নতুন মোড়

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে গরম পানিতে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ, ফরিদপুরে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের ওপর নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। গরম পানি ঢেলে গুরুতরভাবে ঝলসে দেওয়ার এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
ভুক্তভোগী সোহেল মোল্লা (২৫) উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর শাহজাহান মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে সহস্রাইল বাজারের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
চায়ের দোকানদার বাবলু জানান, ওই সময় দোকানে বসে ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার খালাসি ও তার কয়েকজন সহযোগী। এ সময় মানসিক ভারসাম্যহীন সোহেল হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং হাত টানাটানি শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেলকে সরাতে গিয়ে প্রথমে তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে এক পর্যায়ে হাতে থাকা গরম চায়ের কেটলি দিয়ে আঘাত করা হলে ফুটন্ত পানি তার শরীরে পড়ে যায়। এতে বুক থেকে পা পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা সোহেলকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
সোহেলের বাবা শাহজাহান মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ডাক্তার ঢাকায় নিতে বলছে, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নেই। কীভাবে ছেলের চিকিৎসা চালাবো বুঝতে পারছি না।”
অভিযুক্ত আক্তার খালাসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, আহত অবস্থায় সোহেলকে হাসপাতালে আনার পর বিষয়টি জানা যায়। ঘটনাস্থল বোয়ালমারী থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে সেখানে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির চিকিৎসার জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তারও জোর দাবি

ট্যাগস :
আপডেট সময় ০২:০৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
১৮ বার পড়া হয়েছে

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে গরম পানিতে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ, ফরিদপুরে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়

আপডেট সময় ০২:০৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের ওপর নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। গরম পানি ঢেলে গুরুতরভাবে ঝলসে দেওয়ার এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
ভুক্তভোগী সোহেল মোল্লা (২৫) উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর শাহজাহান মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে সহস্রাইল বাজারের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
চায়ের দোকানদার বাবলু জানান, ওই সময় দোকানে বসে ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার খালাসি ও তার কয়েকজন সহযোগী। এ সময় মানসিক ভারসাম্যহীন সোহেল হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং হাত টানাটানি শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেলকে সরাতে গিয়ে প্রথমে তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে এক পর্যায়ে হাতে থাকা গরম চায়ের কেটলি দিয়ে আঘাত করা হলে ফুটন্ত পানি তার শরীরে পড়ে যায়। এতে বুক থেকে পা পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা সোহেলকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
সোহেলের বাবা শাহজাহান মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ডাক্তার ঢাকায় নিতে বলছে, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নেই। কীভাবে ছেলের চিকিৎসা চালাবো বুঝতে পারছি না।”
অভিযুক্ত আক্তার খালাসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, আহত অবস্থায় সোহেলকে হাসপাতালে আনার পর বিষয়টি জানা যায়। ঘটনাস্থল বোয়ালমারী থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে সেখানে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির চিকিৎসার জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তারও জোর দাবি