ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
রাজবাড়ীর কালুখালী প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কমিটি গঠন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে গরম পানিতে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ, ফরিদপুরে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ঢাকার যানজট নিরসনে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর- ফুলবাড়ী মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ১ দাখিলপরীক্ষার্থী দিনাজপুরে ঈদপরবর্তী মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: চেয়ারম্যান হিসেবে তুহিন আজিজ শেখকে দেখতে চায় এলাকাবাসী  অল্প জায়গায় মালসায় কলা চাষে সম্ভাবনার দিগন্ত -ড.আবুল কালাম আজাদ জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর ঈদের নামাজ আদায়, দেশবাসীর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় কালুখালীর রতনদিয়া ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল কেলে’ঙ্কারি: দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন মিরপুর থানা যুবদলের সদস্য সচিব- আমিনুর রহমান শান্ত

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে গরম পানিতে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ, ফরিদপুরে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের ওপর নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। গরম পানি ঢেলে গুরুতরভাবে ঝলসে দেওয়ার এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
ভুক্তভোগী সোহেল মোল্লা (২৫) উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর শাহজাহান মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে সহস্রাইল বাজারের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
চায়ের দোকানদার বাবলু জানান, ওই সময় দোকানে বসে ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার খালাসি ও তার কয়েকজন সহযোগী। এ সময় মানসিক ভারসাম্যহীন সোহেল হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং হাত টানাটানি শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেলকে সরাতে গিয়ে প্রথমে তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে এক পর্যায়ে হাতে থাকা গরম চায়ের কেটলি দিয়ে আঘাত করা হলে ফুটন্ত পানি তার শরীরে পড়ে যায়। এতে বুক থেকে পা পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা সোহেলকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
সোহেলের বাবা শাহজাহান মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ডাক্তার ঢাকায় নিতে বলছে, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নেই। কীভাবে ছেলের চিকিৎসা চালাবো বুঝতে পারছি না।”
অভিযুক্ত আক্তার খালাসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, আহত অবস্থায় সোহেলকে হাসপাতালে আনার পর বিষয়টি জানা যায়। ঘটনাস্থল বোয়ালমারী থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে সেখানে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির চিকিৎসার জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তারও জোর দাবি

ট্যাগস :
আপডেট সময় ০২:০৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে গরম পানিতে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ, ফরিদপুরে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়

আপডেট সময় ০২:০৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের ওপর নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। গরম পানি ঢেলে গুরুতরভাবে ঝলসে দেওয়ার এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
ভুক্তভোগী সোহেল মোল্লা (২৫) উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর শাহজাহান মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে সহস্রাইল বাজারের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
চায়ের দোকানদার বাবলু জানান, ওই সময় দোকানে বসে ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার খালাসি ও তার কয়েকজন সহযোগী। এ সময় মানসিক ভারসাম্যহীন সোহেল হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং হাত টানাটানি শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেলকে সরাতে গিয়ে প্রথমে তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে এক পর্যায়ে হাতে থাকা গরম চায়ের কেটলি দিয়ে আঘাত করা হলে ফুটন্ত পানি তার শরীরে পড়ে যায়। এতে বুক থেকে পা পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা সোহেলকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
সোহেলের বাবা শাহজাহান মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ডাক্তার ঢাকায় নিতে বলছে, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নেই। কীভাবে ছেলের চিকিৎসা চালাবো বুঝতে পারছি না।”
অভিযুক্ত আক্তার খালাসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, আহত অবস্থায় সোহেলকে হাসপাতালে আনার পর বিষয়টি জানা যায়। ঘটনাস্থল বোয়ালমারী থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে সেখানে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির চিকিৎসার জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তারও জোর দাবি