ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
কুসংস্কার ভেঙে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় পেঁচা: মানুষের কল্যাণে এক নীরব প্রহরী -আবুল কালাম আজাদ ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলির পক্ষে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত সিলেটে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে ‘মুশরিকদের’ বিষয়ে সতর্ক করলেন তারেক রহমান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর প্রথম গণসংযোগ অনুষ্ঠিত বোরো ধানের কুশি বৃদ্ধিতে কার্যকর করণীয় জানালেন কৃষি লেখক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ ঢাকা-১৬ আসনে মা-বাবার কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হকের শ্রীনগরে গুড়িয়ে দেওয়া অবৈধ সিলভার কারখানা নবাবগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকাস্থ ফুলবাড়ী সমিতির মিলনমেলা সম্পন্ন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সপরিবারে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকা-১৪ আসনকে আধুনিক ও আদর্শ নগরী গড়ার প্রত্যয়

মিথ্যা মামলা হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফজালের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক

মিরপুর থানার অন্তরগত ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন ১১ নং ওয়ার্ডের সচেতন নাগরিকবৃন্দ।

গতকাল ২৮ তারিখ সকাল ১১ ঘটিকার সময় মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকার লোকজন বিক্ষোভ  মিছিল করেন। আফজালের বিরুদ্ধে মধ্যপাইকপাড়া এলাকায় চাঁদাবাজি,মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করায় বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া ইউনিট বিএনপির সভাপতি মঞ্জু মিয়া সাংবাদিকদের বলেন অভিযোগ দিয়েছি,আমাদের আশ্বস্ত করেছেন খুব দ্রুতই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

মিরপুরের মধ্যপাইক পাড়ার লোকজন হয়রানির শিকারে অতিষ্ঠ  এলাকাবাসী জানান আফজালের অপকর্ম এতোটাই বেপড়ায়া হয়ে গেছে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে এলাকার লোকজন তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে বাধ্য হয়েছি।

আফজাল হোসেন অরফে মুরগি আফজালের বিপক্ষে এলাকাবাসী আরো বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির সমর্থক ও সাধারণ মানুষকে জেল হাজতে পাঠানো, এবং মামলা বানিজ্য করে চলছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে  মোটা অংকের চাঁদা আদায়, জমি দখল, চাঁদার দাবিতে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, সাধারণ মানুষকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি ও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলাসহ অসংখ্য অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আফজাল হোসেনকে মুঠোফোনে জিজ্ঞেস করলে সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন একটি কুচক্রী মহল আমার নামে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সমাজে আমাকে হেয় করার করছে। আমি নির্যাতিত এবং ফ্যাসিজ সরকারের দুঃসময়ে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছি তাই কিছু লোক ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার নামে কুৎসা রটাচ্ছে।

এদিকে অভিযোগ দায়েরের পর তিন মাসের  জন্য বহিষ্কারাদেশ প্রদান করেন আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

ইউনিট বিএনপি’র সভাপতি মঞ্জু মিয়া আরো বলেন, সম্প্রতি লিংকন নামে এক সাধারণ ইলেক্ট্রিক ব্যবসায়িকে সে পরিকল্পিতভাবে রমনা থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠায় এই বলে যে, লিংকন নাকি ১১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অথচ তার পুরো পরিবার বিএনপির সমর্থক। এখন আফজাল ঐ পরিবারের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলছে, এই টাকা দিলে আর লিংকন পা ধরে মাফ চাইলে আমি তাকে ছাড়িয়ে আনবে। নইলে ওরে সারাজীবন জেলে পঁচাবো বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ সে লিংকনের বিয়ের উকিল বাবা।

সরেজমিনে গিয়ে আরো জানা যায় আফজালের রেশন জালিয়াতি নিয়ে প্রতিবাদ এবং কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে সে লিংকনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় ভুয়া মামলা দিয়ে এত বড় বিপদে ফেলেছে।

অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, আফজাল এবং তার সহযোগী দুলাল ও জাকির মিলে এলাকার ২৫০ জনের একটি তালিকা করেছে। এদের সবাইকে নাকি পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগ বানিয়ে পুলিশ দিয়ে ধরানো হবে। এই তালিকায় তার নিজের আত্মীয় বিএনপি নেতা ও সাধারণ সমর্থক মামুন, পলাশ, সহিদ, ইদু, বাপ্পী, রুবেল, সোহেল, ইকবাল, রাসেল, রবিন, মালেক, সালেক, সাত্তার, বাবুল, শাওন, বাবু, সোহেল মিস্ত্রী সহ অনেকের নাম রয়েছে। আফজাল ও তার সহযোগীরা এই তালিকার কথা বলে সবার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এই আফজাল ও তার ছেলের সঙ্গে শেখ পরিবারের যোগাযোগ ছিল। শেখ হাসিনার চাচাত ভাই শেখ হেলালের ছেলে এমপি তন্ময়ের কাছে আফজালের ছেলে অর্ণবের সবসময় যাতায়াত ছিল। সম্প্রতি এরকম একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়েছে।অর্ণব বিগত ৪ আগস্ট ছাত্রদের উপর গুলি চালানো কাউন্সিলর ইসমাইল মোল্লার ডানহাত হিসেবে পরিচিত ছিল।

ট্যাগস :
আপডেট সময় ০৩:৩৩:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
১৪৪ বার পড়া হয়েছে

মিথ্যা মামলা হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফজালের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৩:৩৩:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫

মিরপুর থানার অন্তরগত ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন ১১ নং ওয়ার্ডের সচেতন নাগরিকবৃন্দ।

গতকাল ২৮ তারিখ সকাল ১১ ঘটিকার সময় মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকার লোকজন বিক্ষোভ  মিছিল করেন। আফজালের বিরুদ্ধে মধ্যপাইকপাড়া এলাকায় চাঁদাবাজি,মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করায় বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া ইউনিট বিএনপির সভাপতি মঞ্জু মিয়া সাংবাদিকদের বলেন অভিযোগ দিয়েছি,আমাদের আশ্বস্ত করেছেন খুব দ্রুতই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

মিরপুরের মধ্যপাইক পাড়ার লোকজন হয়রানির শিকারে অতিষ্ঠ  এলাকাবাসী জানান আফজালের অপকর্ম এতোটাই বেপড়ায়া হয়ে গেছে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে এলাকার লোকজন তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে বাধ্য হয়েছি।

আফজাল হোসেন অরফে মুরগি আফজালের বিপক্ষে এলাকাবাসী আরো বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির সমর্থক ও সাধারণ মানুষকে জেল হাজতে পাঠানো, এবং মামলা বানিজ্য করে চলছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে  মোটা অংকের চাঁদা আদায়, জমি দখল, চাঁদার দাবিতে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, সাধারণ মানুষকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি ও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলাসহ অসংখ্য অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আফজাল হোসেনকে মুঠোফোনে জিজ্ঞেস করলে সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন একটি কুচক্রী মহল আমার নামে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সমাজে আমাকে হেয় করার করছে। আমি নির্যাতিত এবং ফ্যাসিজ সরকারের দুঃসময়ে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছি তাই কিছু লোক ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার নামে কুৎসা রটাচ্ছে।

এদিকে অভিযোগ দায়েরের পর তিন মাসের  জন্য বহিষ্কারাদেশ প্রদান করেন আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

ইউনিট বিএনপি’র সভাপতি মঞ্জু মিয়া আরো বলেন, সম্প্রতি লিংকন নামে এক সাধারণ ইলেক্ট্রিক ব্যবসায়িকে সে পরিকল্পিতভাবে রমনা থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠায় এই বলে যে, লিংকন নাকি ১১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অথচ তার পুরো পরিবার বিএনপির সমর্থক। এখন আফজাল ঐ পরিবারের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলছে, এই টাকা দিলে আর লিংকন পা ধরে মাফ চাইলে আমি তাকে ছাড়িয়ে আনবে। নইলে ওরে সারাজীবন জেলে পঁচাবো বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ সে লিংকনের বিয়ের উকিল বাবা।

সরেজমিনে গিয়ে আরো জানা যায় আফজালের রেশন জালিয়াতি নিয়ে প্রতিবাদ এবং কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে সে লিংকনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় ভুয়া মামলা দিয়ে এত বড় বিপদে ফেলেছে।

অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, আফজাল এবং তার সহযোগী দুলাল ও জাকির মিলে এলাকার ২৫০ জনের একটি তালিকা করেছে। এদের সবাইকে নাকি পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগ বানিয়ে পুলিশ দিয়ে ধরানো হবে। এই তালিকায় তার নিজের আত্মীয় বিএনপি নেতা ও সাধারণ সমর্থক মামুন, পলাশ, সহিদ, ইদু, বাপ্পী, রুবেল, সোহেল, ইকবাল, রাসেল, রবিন, মালেক, সালেক, সাত্তার, বাবুল, শাওন, বাবু, সোহেল মিস্ত্রী সহ অনেকের নাম রয়েছে। আফজাল ও তার সহযোগীরা এই তালিকার কথা বলে সবার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এই আফজাল ও তার ছেলের সঙ্গে শেখ পরিবারের যোগাযোগ ছিল। শেখ হাসিনার চাচাত ভাই শেখ হেলালের ছেলে এমপি তন্ময়ের কাছে আফজালের ছেলে অর্ণবের সবসময় যাতায়াত ছিল। সম্প্রতি এরকম একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়েছে।অর্ণব বিগত ৪ আগস্ট ছাত্রদের উপর গুলি চালানো কাউন্সিলর ইসমাইল মোল্লার ডানহাত হিসেবে পরিচিত ছিল।