ঢাকা ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
যানজট নিরসন ও ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া প্রতিরোধে ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সচেতনতা কর্মসূচি ১২ নম্বর ওয়ার্ডে তরুণ নেতৃত্বের আলোচনা: কাউন্সিলর পদে লড়তে চান যুবদল নেতা আমিনুর রহমান শান্ত শাহআলীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, থানায় মামলা ও বিক্ষোভ মিছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য রাখছেন রাজবাড়ীর পাংশায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন রাজবাড়ীর কালুখালীতে বিক্রয় প্রতিনিধি জোট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বৃহত্তর মিরপুরস্থ আইনজীবী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত রাজবাড়ীর পাংশায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন, প্রথম ধাপে ১,২০১ পরিবার উপকৃত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন সময় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষা বিস্তারে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছেন বর্ষীয়ান কবি মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ হতাশ জেলেরা

মোহাম্মদ নোমান (ভোলা জেলা প্রতিনিধি)

বর্তমান সময়ে তথা চলতি মৌসুমেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ জেলেরা। অনেকে নদীতে যাওয়া ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজে নিয়োজিত হয়েছেন। বিভিন্ন এনজিও’র ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে অনেক জেলে নৌকা, জাল ও ট্রলার ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন।

এই পরিস্থিতিতে এনজিও এবং মহাজনের ঋণের বোঝা বইতে না পেরে অনেক জেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

একসময় ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের নৌকা ইলিশে বোঝাই হয়ে ঘাটে ফিরত, তাদের মুখে থাকত হাসি। কিন্তু সেই সোনালী দিন এখন অতীত। বর্তমানে দিনভর জাল ফেলে সামান্য মাছও পাচ্ছেন না জেলেরা। আয় না থাকায় স্থানীয় মহাজন ও এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

জেলেরা জানান, আগে মৌসুমে একদিন নদীতে নামলে পাঁচ থেকে সাত মণ ইলিশ পাওয়া যেত, কিন্তু এখন দিনের পর দিন নদীতে থেকেও মাছ মিলছে না। তারা এর জন্য অবৈধ জাল ব্যবহার করে অসাধু জেলেদের রেণু পোনা নিধনকে দায়ী করছেন।

জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী ও জেলে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত জেলেদের একটি সঠিক তালিকা তৈরি করে তাদের সরকারি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে এই পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

অন্যদিকে, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীর মোহনায় পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে নদীতে ইলিশের আনাগোনা কমে গেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভোলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখ ৭১ হাজার এবং অনিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি। এই বিশাল সংখ্যক জেলের জীবন এখন ইলিশ সংকটের কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :
আপডেট সময় ০৫:২৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৮০ বার পড়া হয়েছে

ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ হতাশ জেলেরা

আপডেট সময় ০৫:২৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বর্তমান সময়ে তথা চলতি মৌসুমেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ জেলেরা। অনেকে নদীতে যাওয়া ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজে নিয়োজিত হয়েছেন। বিভিন্ন এনজিও’র ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে অনেক জেলে নৌকা, জাল ও ট্রলার ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন।

এই পরিস্থিতিতে এনজিও এবং মহাজনের ঋণের বোঝা বইতে না পেরে অনেক জেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

একসময় ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের নৌকা ইলিশে বোঝাই হয়ে ঘাটে ফিরত, তাদের মুখে থাকত হাসি। কিন্তু সেই সোনালী দিন এখন অতীত। বর্তমানে দিনভর জাল ফেলে সামান্য মাছও পাচ্ছেন না জেলেরা। আয় না থাকায় স্থানীয় মহাজন ও এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

জেলেরা জানান, আগে মৌসুমে একদিন নদীতে নামলে পাঁচ থেকে সাত মণ ইলিশ পাওয়া যেত, কিন্তু এখন দিনের পর দিন নদীতে থেকেও মাছ মিলছে না। তারা এর জন্য অবৈধ জাল ব্যবহার করে অসাধু জেলেদের রেণু পোনা নিধনকে দায়ী করছেন।

জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী ও জেলে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত জেলেদের একটি সঠিক তালিকা তৈরি করে তাদের সরকারি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে এই পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

অন্যদিকে, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীর মোহনায় পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে নদীতে ইলিশের আনাগোনা কমে গেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভোলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখ ৭১ হাজার এবং অনিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি। এই বিশাল সংখ্যক জেলের জীবন এখন ইলিশ সংকটের কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।