ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
পহেলা বৈশাখে মিরপুরে পান্তা-ভাতের আয়োজন বাবুল মোল্লার উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী -তারেক রহমান বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন কাউন্সিলর প্রার্থী আমিনুর রহমান শান্ত বিতর্কিত আলী আফজালের নেতৃত্বে রিহ্যাব দখলের অভিযোগ, উদ্বেগ সংশ্লিষ্ট মহলে ঢাকা জিরো পয়েন্ট থেকে দিনাজপুরে জিরো পয়েন্ট দৌড়ে ইতিহাস গড়লেন তরুণ অ্যাথলেট সাকিব উৎসবমুখর পরিবেশে ফুলকুঁড়ি বিদ্যানিকেতনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ উপনির্বাচন: দুই আসনেই বিএনপির বড় জয় পাংশায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত কালুখালীতে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড লোহাগড়ায় দাফনের ৭ মাস পর কবর থেকে পার্ক ম্যানেজারের লাশ উত্তোলন, তদন্তে নতুন মোড়

ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ হতাশ জেলেরা

মোহাম্মদ নোমান (ভোলা জেলা প্রতিনিধি)

বর্তমান সময়ে তথা চলতি মৌসুমেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ জেলেরা। অনেকে নদীতে যাওয়া ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজে নিয়োজিত হয়েছেন। বিভিন্ন এনজিও’র ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে অনেক জেলে নৌকা, জাল ও ট্রলার ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন।

এই পরিস্থিতিতে এনজিও এবং মহাজনের ঋণের বোঝা বইতে না পেরে অনেক জেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

একসময় ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের নৌকা ইলিশে বোঝাই হয়ে ঘাটে ফিরত, তাদের মুখে থাকত হাসি। কিন্তু সেই সোনালী দিন এখন অতীত। বর্তমানে দিনভর জাল ফেলে সামান্য মাছও পাচ্ছেন না জেলেরা। আয় না থাকায় স্থানীয় মহাজন ও এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

জেলেরা জানান, আগে মৌসুমে একদিন নদীতে নামলে পাঁচ থেকে সাত মণ ইলিশ পাওয়া যেত, কিন্তু এখন দিনের পর দিন নদীতে থেকেও মাছ মিলছে না। তারা এর জন্য অবৈধ জাল ব্যবহার করে অসাধু জেলেদের রেণু পোনা নিধনকে দায়ী করছেন।

জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী ও জেলে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত জেলেদের একটি সঠিক তালিকা তৈরি করে তাদের সরকারি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে এই পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

অন্যদিকে, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীর মোহনায় পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে নদীতে ইলিশের আনাগোনা কমে গেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভোলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখ ৭১ হাজার এবং অনিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি। এই বিশাল সংখ্যক জেলের জীবন এখন ইলিশ সংকটের কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :
আপডেট সময় ০৫:২৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৮৯ বার পড়া হয়েছে

ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ হতাশ জেলেরা

আপডেট সময় ০৫:২৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বর্তমান সময়ে তথা চলতি মৌসুমেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ জেলেরা। অনেকে নদীতে যাওয়া ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজে নিয়োজিত হয়েছেন। বিভিন্ন এনজিও’র ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে অনেক জেলে নৌকা, জাল ও ট্রলার ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন।

এই পরিস্থিতিতে এনজিও এবং মহাজনের ঋণের বোঝা বইতে না পেরে অনেক জেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

একসময় ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের নৌকা ইলিশে বোঝাই হয়ে ঘাটে ফিরত, তাদের মুখে থাকত হাসি। কিন্তু সেই সোনালী দিন এখন অতীত। বর্তমানে দিনভর জাল ফেলে সামান্য মাছও পাচ্ছেন না জেলেরা। আয় না থাকায় স্থানীয় মহাজন ও এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

জেলেরা জানান, আগে মৌসুমে একদিন নদীতে নামলে পাঁচ থেকে সাত মণ ইলিশ পাওয়া যেত, কিন্তু এখন দিনের পর দিন নদীতে থেকেও মাছ মিলছে না। তারা এর জন্য অবৈধ জাল ব্যবহার করে অসাধু জেলেদের রেণু পোনা নিধনকে দায়ী করছেন।

জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী ও জেলে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত জেলেদের একটি সঠিক তালিকা তৈরি করে তাদের সরকারি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে এই পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

অন্যদিকে, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীর মোহনায় পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে নদীতে ইলিশের আনাগোনা কমে গেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভোলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখ ৭১ হাজার এবং অনিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি। এই বিশাল সংখ্যক জেলের জীবন এখন ইলিশ সংকটের কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।