ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
কুসংস্কার ভেঙে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় পেঁচা: মানুষের কল্যাণে এক নীরব প্রহরী -আবুল কালাম আজাদ ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলির পক্ষে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত সিলেটে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে ‘মুশরিকদের’ বিষয়ে সতর্ক করলেন তারেক রহমান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর প্রথম গণসংযোগ অনুষ্ঠিত বোরো ধানের কুশি বৃদ্ধিতে কার্যকর করণীয় জানালেন কৃষি লেখক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ ঢাকা-১৬ আসনে মা-বাবার কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হকের শ্রীনগরে গুড়িয়ে দেওয়া অবৈধ সিলভার কারখানা নবাবগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকাস্থ ফুলবাড়ী সমিতির মিলনমেলা সম্পন্ন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সপরিবারে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকা-১৪ আসনকে আধুনিক ও আদর্শ নগরী গড়ার প্রত্যয়

দালাল রোমানের দখলে কোনাবাড়ী ভূমি অফিস-সেবা পেতে সাধারণ মানুষ জিম্মি”

আসাদুজ্জামান

গাজীপুরের কোনাবাড়ী ভূমি অফিসে গেলেই প্রথমেই চোখে পড়ে দালাল রোমানের দাপট। যেনো তিনি অফিসের অনুমোদিত কর্মচারী-এমন ভাব করে নাগরিকদের সামনে দাঁড়ান, কথা বলেন নির্দেশের ভঙ্গিতে। সাধারণ মানুষ সরাসরি কোনো অফিসার বা কর্মকর্তার কাছে যেতে চাইলে রোমানই প্রথম বাধা হয়ে দাঁড়ান। “ওভাই, স্যার ব্যস্ত, আপনার কাজ আমাদের দিয়ে করান”—এই কথাই তার মুখের বুলি।

যে বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক, অফিসের ভেতরেও তার প্রভাব স্পষ্ট। করিডোর, লবি, অফিস কক্ষের সামনে রোমানের উপস্থিতি এমনভাবে দেখা যায় যে মনে হয় তিনি নিয়মিত স্টাফ। অনেক সেবা প্রত্যাশীর অভিযোগ—রোমান ও তার আশপাশে থাকা কিছু দালাল আগে থেকেই বুঝে ফেলে কোন নাগরিক কী কাজে এসেছে। এরপর তাদের আলাদা করে নিয়ে যায়, ফাইল দেখার অজুহাতে কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়, এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।

একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান—রোমান দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে এক ধরনের অঘোষিত আধিপত্য কায়েম করে রেখেছে। “আমরা সরাসরি জনগণকে সেবা দিতে গেলে ওরা নানা অজুহাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। অনেক সময় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিতেও দ্বিধা করে না। ফলে অনেক কর্মচারীই ওদের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে যেতে ভয় পান।”

এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি ৪ শতক ৮০ পয়েন্ট জমির খারিজ করতে গেলে রোমান নিজেকে অফিসের স্টাফ পরিচয় দিয়ে কাগজপত্র নিয়ে নেন এবং বলেন—“সব কাজ আমি করে দেব।” পরে তিনি রোমানকে ১৩ হাজার টাকা দেন। পরে জানতে পারেন, এ কাজের সরকারি খরচ মাত্র ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। প্রতারণার শিকার ওই ব্যক্তি বলেন, “যখন আমি সরাসরি অফিসার স্যারের কাছে যেতে চেয়েছিলাম, রোমান আমাকে ধমক দিয়ে সরিয়ে দেয়। দেখে মনে হয়েছে স্যারও এসব বলার মতো অবস্থায় নেই।”

অভিযোগ রয়েছে, রোমান একা নয়—তার পেছনে রয়েছে একটি ছোট কিন্তু প্রভাবশালী দালালচক্র। তারা অফিসের ভেতরের তথ্য, ফাইলের অগ্রগতি, কোন কাগজ কোথায় যাচ্ছে—এসব বিষয়ে অস্বাভাবিক রকম জ্ঞান রাখে। এই সুবিধা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাজকে জিম্মি করে রাখে।

একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেন, “দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান মাঝে মাঝে হয়, কিন্তু রোমানরা কয়েকদিন পর আবার ফিরে আসে। স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে এই সমস্যা যাবে না।”

সেবা প্রত্যাশীরা বলছেন—একজন রোমানের মতো দালাল দিনের পর দিন কীভাবে একটি সরকারি অফিসের সামনে-ভেতরে এমন প্রভাব দেখায়, সেটাই বড় প্রশ্ন। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, রোমানের মতো দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না করলে, ভূমি অফিসে সেবা নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

ট্যাগস :
আপডেট সময় ০৪:৪৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
৪৬ বার পড়া হয়েছে

দালাল রোমানের দখলে কোনাবাড়ী ভূমি অফিস-সেবা পেতে সাধারণ মানুষ জিম্মি”

আপডেট সময় ০৪:৪৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

গাজীপুরের কোনাবাড়ী ভূমি অফিসে গেলেই প্রথমেই চোখে পড়ে দালাল রোমানের দাপট। যেনো তিনি অফিসের অনুমোদিত কর্মচারী-এমন ভাব করে নাগরিকদের সামনে দাঁড়ান, কথা বলেন নির্দেশের ভঙ্গিতে। সাধারণ মানুষ সরাসরি কোনো অফিসার বা কর্মকর্তার কাছে যেতে চাইলে রোমানই প্রথম বাধা হয়ে দাঁড়ান। “ওভাই, স্যার ব্যস্ত, আপনার কাজ আমাদের দিয়ে করান”—এই কথাই তার মুখের বুলি।

যে বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক, অফিসের ভেতরেও তার প্রভাব স্পষ্ট। করিডোর, লবি, অফিস কক্ষের সামনে রোমানের উপস্থিতি এমনভাবে দেখা যায় যে মনে হয় তিনি নিয়মিত স্টাফ। অনেক সেবা প্রত্যাশীর অভিযোগ—রোমান ও তার আশপাশে থাকা কিছু দালাল আগে থেকেই বুঝে ফেলে কোন নাগরিক কী কাজে এসেছে। এরপর তাদের আলাদা করে নিয়ে যায়, ফাইল দেখার অজুহাতে কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়, এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।

একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান—রোমান দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে এক ধরনের অঘোষিত আধিপত্য কায়েম করে রেখেছে। “আমরা সরাসরি জনগণকে সেবা দিতে গেলে ওরা নানা অজুহাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। অনেক সময় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিতেও দ্বিধা করে না। ফলে অনেক কর্মচারীই ওদের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে যেতে ভয় পান।”

এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি ৪ শতক ৮০ পয়েন্ট জমির খারিজ করতে গেলে রোমান নিজেকে অফিসের স্টাফ পরিচয় দিয়ে কাগজপত্র নিয়ে নেন এবং বলেন—“সব কাজ আমি করে দেব।” পরে তিনি রোমানকে ১৩ হাজার টাকা দেন। পরে জানতে পারেন, এ কাজের সরকারি খরচ মাত্র ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। প্রতারণার শিকার ওই ব্যক্তি বলেন, “যখন আমি সরাসরি অফিসার স্যারের কাছে যেতে চেয়েছিলাম, রোমান আমাকে ধমক দিয়ে সরিয়ে দেয়। দেখে মনে হয়েছে স্যারও এসব বলার মতো অবস্থায় নেই।”

অভিযোগ রয়েছে, রোমান একা নয়—তার পেছনে রয়েছে একটি ছোট কিন্তু প্রভাবশালী দালালচক্র। তারা অফিসের ভেতরের তথ্য, ফাইলের অগ্রগতি, কোন কাগজ কোথায় যাচ্ছে—এসব বিষয়ে অস্বাভাবিক রকম জ্ঞান রাখে। এই সুবিধা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাজকে জিম্মি করে রাখে।

একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেন, “দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান মাঝে মাঝে হয়, কিন্তু রোমানরা কয়েকদিন পর আবার ফিরে আসে। স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে এই সমস্যা যাবে না।”

সেবা প্রত্যাশীরা বলছেন—একজন রোমানের মতো দালাল দিনের পর দিন কীভাবে একটি সরকারি অফিসের সামনে-ভেতরে এমন প্রভাব দেখায়, সেটাই বড় প্রশ্ন। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, রোমানের মতো দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না করলে, ভূমি অফিসে সেবা নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।